ম্যাকিনাক, ১৯ জুন : মিশিগানের জনপ্রিয় গ্রীষ্মকালীন পর্যটন কেন্দ্র ম্যাকিনাক দ্বীপে মোটরচালিত যানবাহন নিষিদ্ধ। সেখানে সাইকেলের জন্য নতুন গতিসীমা আইন কার্যকর হলেও এখন পর্যন্ত ওই আইন লঙ্ঘনের দায়ে কাউকে জরিমানা করা হয়নি। তবে অন্যান্য কারণে সাইকেল আরোহীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে দ্বীপটিতে নতুন গতিসীমা আইন কার্যকর হয়। আইন অনুযায়ী, দ্বীপটিকে ঘিরে থাকা প্রায় ৮ দশমিক ২ মাইল দীর্ঘ সড়কে সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৫ মাইল এবং শহরের বাণিজ্যিক এলাকায় ঘণ্টায় ১০ মাইল নির্ধারণ করা হয়েছে।
ম্যাকিনাক দ্বীপের পুলিশ প্রধান ডোয়েন মিদজিয়ানোস্কি জানান, নতুন গতিসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে এখন পর্যন্ত কাউকে টিকিট দেওয়া হয়নি। এর অন্যতম কারণ হলো সাইকেলের গতি নির্ভুলভাবে পরিমাপ করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি বা সরঞ্জাম বর্তমানে পুলিশের কাছে নেই।
তবে তিনি বলেন, অসতর্ক বা বেপরোয়া সাইকেল চালানোর বিরুদ্ধে পুলিশ আগেও ব্যবস্থা নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও নেবে। বিশেষ করে ঘোড়ার গাড়ির ফাঁক দিয়ে দ্রুতগতিতে বা আঁকাবাঁকা পথে ঝুঁকিপূর্ণভাবে সাইকেল চালানোর মতো ঘটনায় জরিমানা করা হয়ে থাকে।
পুলিশ প্রধানের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২৫ সালেই অসতর্ক ও বেপরোয়া সাইকেল চালানোর অভিযোগে চারজন সাইকেল আরোহীকে জরিমানা করা হয়েছে।
মিদজিয়ানোস্কি বলেন, “কেউ যদি অতিরিক্ত গতিতে সাইকেল চালায় এবং মানুষের ভিড়ের মধ্যে আঁকাবাঁকা পথে চলাচল করে নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করে, তখনই আমরা তাকে থামাই। অনেক সময় আমাদের নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান নিয়ে টহল দিতে দেখা যায়। এর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো দৃশ্যমান উপস্থিতির মাধ্যমে মানুষকে সতর্ক করা এবং বেপরোয়া আচরণ নিরুৎসাহিত করা।”
আইনটির প্রস্তাবক হারবার স্প্রিংসের রিপাবলিকান সিনেটর জন ডামুস জানান, দ্বীপে বৈদ্যুতিক সাইকেল বা ই-বাইকের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই ২০২৪ সালের জুলাই মাসে নতুন গতিসীমা নির্ধারণ করা হয়।
সে সময় দ্বীপের নীতিনির্ধারকেরা লক্ষ্য করেন, দ্বীপটিকে ঘিরে থাকা M-185 মহাসড়কটির সাধারণ গতিসীমা ঘণ্টায় ৫৫ মাইল নির্ধারিত ছিল, যদিও এটি মিশিগানের একমাত্র মহাসড়ক যেখানে মোটরচালিত যানবাহন চলাচল করে না। কর্মকর্তাদের মতে, ওই গতিসীমা পরিবর্তনের জন্য রাজ্য আইনপ্রণেতাদের অনুমোদন প্রয়োজন ছিল, ফলে পুলিশের জন্য নিরাপদ গতিসীমা কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।
৫৫ মাইলের পরিবর্তে কম গতিসীমা নির্ধারণের উদ্যোগ সম্পর্কে ডামুস বলেন, “তারা মূলত একটি কার্যকর সমাধান খুঁজছিলেন। মানুষ যখন ব্যাপকভাবে ই-বাইক ব্যবহার শুরু করল, তখন বিষয়টি নিয়মিত নিরাপত্তা সমস্যায় পরিণত হয়।
মিদজিয়ানোস্কি জানান, ২০২৪ সালে সাইকেল দুর্ঘটনার কারণে ব্যক্তিগত আঘাতের মতো নয়টি গুরুতর ঘটনা ঘটেছিল। ২০২৫ সালে এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা কমে সাতটিতে নেমে এসেছে।
ম্যাকিনাক দ্বীপে সাধারণভাবে ই-বাইক চালানো নিষিদ্ধ। তবে স্বীকৃত শারীরিক সীমাবদ্ধতা বা চলাচলজনিত প্রতিবন্ধকতা থাকা ব্যক্তিদের জন্য ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। তাঁদের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ‘ক্লাস ১’ বা প্যাডেল-অ্যাসিস্ট ই-বাইক ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে, যার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২০ মাইল।
মিদজিয়ানোস্কি বলেন, গতিসীমা কার্যকর হওয়ার পর থেকে পুলিশ সদস্যরা জরিমানার পরিবর্তে সচেতনতা ও সতর্কীকরণকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি গতিতে চলা সাইকেল আরোহীদের প্রথমে সতর্ক করা হয়। তবে প্রয়োজন হলে অসতর্ক বা বেপরোয়া সাইকেল চালনার বিরুদ্ধে বিদ্যমান পৌর অধ্যাদেশের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যেখানে অতিরিক্ত গতিতে সাইকেল চালানোর বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
গত দুই বছরে দ্বীপে স্নোমোবাইলের গতিসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে মাত্র একজনকে জরিমানা করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রায় ৪০ বছর পুরোনো একটি স্নোমোবাইল চালানোর সময় এক ব্যক্তি ঘণ্টায় ২০ মাইল গতিসীমার এলাকায় ৩৫ মাইল গতিতে চলছিলেন। এ কারণে তাঁকে জরিমানা করা হয়।
সিনেটর জন ডামুস বলেন, নতুন গতিসীমা নির্ধারণের উদ্দেশ্য ব্যাপক হারে জরিমানা আদায় করা নয়; বরং পর্যটক ও স্থানীয়দের নিরাপদে চলাচলে উৎসাহিত করা এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো।
ডামুস বলেন, “আমার মনে হয় না কর্তৃপক্ষ অকারণে মানুষকে জরিমানা করতে চায়। তারা চায় সবাই নিরাপদে এবং আনন্দের সঙ্গে সময় কাটাক। কিন্তু অতিরিক্ত গতি যে বিপজ্জনক হতে পারে, সেটিও মনে রাখতে হবে।”
হাসতে হাসতে তিনি আরও বলেন, “আমরা যখনই গতিসীমার সাইনবোর্ডের পাশ দিয়ে যাই, আমার ছেলে মজা করে বলে, ‘ধন্যবাদ বাবা।’”
Source & Photo: http://detroitnews.com
২০২৪ সালের জুলাই মাসে দ্বীপটিতে নতুন গতিসীমা আইন কার্যকর হয়। আইন অনুযায়ী, দ্বীপটিকে ঘিরে থাকা প্রায় ৮ দশমিক ২ মাইল দীর্ঘ সড়কে সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৫ মাইল এবং শহরের বাণিজ্যিক এলাকায় ঘণ্টায় ১০ মাইল নির্ধারণ করা হয়েছে।
ম্যাকিনাক দ্বীপের পুলিশ প্রধান ডোয়েন মিদজিয়ানোস্কি জানান, নতুন গতিসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে এখন পর্যন্ত কাউকে টিকিট দেওয়া হয়নি। এর অন্যতম কারণ হলো সাইকেলের গতি নির্ভুলভাবে পরিমাপ করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি বা সরঞ্জাম বর্তমানে পুলিশের কাছে নেই।
তবে তিনি বলেন, অসতর্ক বা বেপরোয়া সাইকেল চালানোর বিরুদ্ধে পুলিশ আগেও ব্যবস্থা নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও নেবে। বিশেষ করে ঘোড়ার গাড়ির ফাঁক দিয়ে দ্রুতগতিতে বা আঁকাবাঁকা পথে ঝুঁকিপূর্ণভাবে সাইকেল চালানোর মতো ঘটনায় জরিমানা করা হয়ে থাকে।
পুলিশ প্রধানের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২৫ সালেই অসতর্ক ও বেপরোয়া সাইকেল চালানোর অভিযোগে চারজন সাইকেল আরোহীকে জরিমানা করা হয়েছে।
মিদজিয়ানোস্কি বলেন, “কেউ যদি অতিরিক্ত গতিতে সাইকেল চালায় এবং মানুষের ভিড়ের মধ্যে আঁকাবাঁকা পথে চলাচল করে নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করে, তখনই আমরা তাকে থামাই। অনেক সময় আমাদের নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান নিয়ে টহল দিতে দেখা যায়। এর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো দৃশ্যমান উপস্থিতির মাধ্যমে মানুষকে সতর্ক করা এবং বেপরোয়া আচরণ নিরুৎসাহিত করা।”
আইনটির প্রস্তাবক হারবার স্প্রিংসের রিপাবলিকান সিনেটর জন ডামুস জানান, দ্বীপে বৈদ্যুতিক সাইকেল বা ই-বাইকের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই ২০২৪ সালের জুলাই মাসে নতুন গতিসীমা নির্ধারণ করা হয়।
সে সময় দ্বীপের নীতিনির্ধারকেরা লক্ষ্য করেন, দ্বীপটিকে ঘিরে থাকা M-185 মহাসড়কটির সাধারণ গতিসীমা ঘণ্টায় ৫৫ মাইল নির্ধারিত ছিল, যদিও এটি মিশিগানের একমাত্র মহাসড়ক যেখানে মোটরচালিত যানবাহন চলাচল করে না। কর্মকর্তাদের মতে, ওই গতিসীমা পরিবর্তনের জন্য রাজ্য আইনপ্রণেতাদের অনুমোদন প্রয়োজন ছিল, ফলে পুলিশের জন্য নিরাপদ গতিসীমা কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।
৫৫ মাইলের পরিবর্তে কম গতিসীমা নির্ধারণের উদ্যোগ সম্পর্কে ডামুস বলেন, “তারা মূলত একটি কার্যকর সমাধান খুঁজছিলেন। মানুষ যখন ব্যাপকভাবে ই-বাইক ব্যবহার শুরু করল, তখন বিষয়টি নিয়মিত নিরাপত্তা সমস্যায় পরিণত হয়।
মিদজিয়ানোস্কি জানান, ২০২৪ সালে সাইকেল দুর্ঘটনার কারণে ব্যক্তিগত আঘাতের মতো নয়টি গুরুতর ঘটনা ঘটেছিল। ২০২৫ সালে এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা কমে সাতটিতে নেমে এসেছে।
ম্যাকিনাক দ্বীপে সাধারণভাবে ই-বাইক চালানো নিষিদ্ধ। তবে স্বীকৃত শারীরিক সীমাবদ্ধতা বা চলাচলজনিত প্রতিবন্ধকতা থাকা ব্যক্তিদের জন্য ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। তাঁদের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ‘ক্লাস ১’ বা প্যাডেল-অ্যাসিস্ট ই-বাইক ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে, যার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২০ মাইল।
মিদজিয়ানোস্কি বলেন, গতিসীমা কার্যকর হওয়ার পর থেকে পুলিশ সদস্যরা জরিমানার পরিবর্তে সচেতনতা ও সতর্কীকরণকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি গতিতে চলা সাইকেল আরোহীদের প্রথমে সতর্ক করা হয়। তবে প্রয়োজন হলে অসতর্ক বা বেপরোয়া সাইকেল চালনার বিরুদ্ধে বিদ্যমান পৌর অধ্যাদেশের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যেখানে অতিরিক্ত গতিতে সাইকেল চালানোর বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
গত দুই বছরে দ্বীপে স্নোমোবাইলের গতিসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে মাত্র একজনকে জরিমানা করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রায় ৪০ বছর পুরোনো একটি স্নোমোবাইল চালানোর সময় এক ব্যক্তি ঘণ্টায় ২০ মাইল গতিসীমার এলাকায় ৩৫ মাইল গতিতে চলছিলেন। এ কারণে তাঁকে জরিমানা করা হয়।
সিনেটর জন ডামুস বলেন, নতুন গতিসীমা নির্ধারণের উদ্দেশ্য ব্যাপক হারে জরিমানা আদায় করা নয়; বরং পর্যটক ও স্থানীয়দের নিরাপদে চলাচলে উৎসাহিত করা এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো।
ডামুস বলেন, “আমার মনে হয় না কর্তৃপক্ষ অকারণে মানুষকে জরিমানা করতে চায়। তারা চায় সবাই নিরাপদে এবং আনন্দের সঙ্গে সময় কাটাক। কিন্তু অতিরিক্ত গতি যে বিপজ্জনক হতে পারে, সেটিও মনে রাখতে হবে।”
হাসতে হাসতে তিনি আরও বলেন, “আমরা যখনই গতিসীমার সাইনবোর্ডের পাশ দিয়ে যাই, আমার ছেলে মজা করে বলে, ‘ধন্যবাদ বাবা।’”
Source & Photo: http://detroitnews.com