ডেট্রয়েটের র্যালফ সি. উইলসন জুনিয়র সেন্টেনিয়াল পার্কে শুক্রবার ‘ডেট্রয়েট রিভারফ্রন্ট কনজারভেন্সি’ আয়োজিত বার্ষিক জুনটিনথ উৎসবে পরিবেশনা করছে ‘নানু জিয়াপো আফ্রিকান ড্রাম অ্যান্ড ড্যান্স’ দল। ঐতিহ্যবাহী আফ্রিকান বাদ্যযন্ত্র ও নৃত্যের পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে উৎসব প্রাঙ্গণ/Robin Buckson, The Detroit News
ডেট্রয়েট, ২০ জুন : ব্রায়ানা বার্ট দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, খাবার মানুষের মধ্যে সংযোগ গড়ে তুলতে পারে এবং ডেট্রয়েটবাসীদের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসতে সক্ষম।
রেডফোর্ড থার্স্টন স্কুলের ১৭ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থী শুক্রবার ডেট্রয়েট শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ‘রালফ সি. উইলসন জুনিয়র সেন্টেনিয়াল পার্কে’ আয়োজিত “ জুনটিন্থ অ্যাট উইলসন: দ্য স্টোরিজ অফ আস” অনুষ্ঠানে উপস্থিত শতাধিক মানুষের সামনে খাবারকে কেন্দ্র করে রচিত একটি কবিতা আবৃত্তি করেন।
কবিতায় তিনি বলেন, আমি এখানকার পরিবেশ ও আবহ পছন্দ করি; পছন্দ করি নানা বর্ণের মানুষের বৈচিত্র্য, আমাদের দেয়ালচিত্র এবং কৃষ্ণাঙ্গ বা বাদামী ত্বকের মাঝে থাকা প্রাণশক্তি...। আমরা অনেক খাই, কারণ আমরা সবসময় আরও বেশি কিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করি; আবার একই সঙ্গে কমের জন্যও ক্ষুধার্ত থাকি।”
বার্ট বলেন, খাবার এমন একটি বিষয় যার সঙ্গে প্রত্যেক মানুষেরই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা জড়িয়ে আছে। আগামী সেপ্টেম্বরে তিনি স্কুলের সিনিয়র বর্ষে পদার্পণ করবেন। তার ভাষায়, “খাবার সত্যিই মানুষকে একত্রিত করতে পারে।
‘হিউরন-ক্লিনটন মেট্রোপার্কস’-এর উদ্যোগে শুক্রবার অনুষ্ঠিত এই বিনামূল্যের অনুষ্ঠানটি ছিল মেট্রো ডেট্রয়েটজুড়ে ‘ জুনটিন্থ’ উপলক্ষে আয়োজিত একাধিক কর্মসূচির অন্যতম। উল্লেখ্য, জুনটিন্থ যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল ছুটির দিন, যা কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানদের দাসত্ব থেকে মুক্তির স্মৃতিকে সম্মান জানাতে পালিত হয়।
এ উপলক্ষে ডেট্রয়েটের ট্যাবারনাকল মিশনারি ব্যাপ্টিস্ট চার্চ একটি শোভাযাত্রার আয়োজন করে। পাশাপাশি চার্লস এইচ. রাইট মিউজিয়াম অব আফ্রিকান আমেরিকান হিস্ট্রি-তে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
রালফ সি. উইলসন জুনিয়র সেন্টেনিয়াল পার্কে পশ্চিম আফ্রিকার ঐতিহ্যবাহী ‘টকিং ড্রাম’-এর আদলে নির্মিত আটটি ভাস্কর্য প্রদর্শন করা হয়। সেখানে বিভিন্ন খাবার ও শিল্পকর্মের স্টলের পাশাপাশি ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে একটি ‘গেট আউট দ্য ভোট’ বুথও স্থাপন করা হয়, যা পরিচালনা করেন ওয়েইন কাউন্টি ক্লার্কের কার্যালয়ের কর্মীরা।
৩৮ বছর বয়সী টমাস উইলিস তাঁর ১২ বছর বয়সী মেয়ে লিসা উইলিসকে নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তাঁর মতে, এ ধরনের আয়োজন প্রমাণ করে যে ডেট্রয়েটের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে একত্রিত হতে পারে এবং ইতিবাচক সামাজিক বন্ধন গড়ে তুলতে সক্ষম।
ডেট্রয়েটের পূর্বাঞ্চলের বাসিন্দা টমাস বলেন, “চারপাশে তাকিয়ে দেখুন, এখানে কোনো সমস্যা নেই। ডেট্রয়েট সম্পর্কে সাধারণত নানা নেতিবাচক খবরই বেশি শোনা যায়। কিন্তু এমন আয়োজন মানুষকে ভিন্ন একটি চিত্র দেখায়। এটি সত্যিই ভালো লাগে। আমাদের আরও বেশি এমন অনুষ্ঠানের প্রয়োজন।”
শুক্রবারের অনুষ্ঠানে পরিবেশনকারীদের মধ্যে ছিলেন ‘ডেট্রয়েট ড্রাম অ্যান্ড ড্যান্স’ দলের সদস্য ডেনিস থম। ডেট্রয়েটের বাসিন্দা থম বলেন, “অনুষ্ঠানটি সত্যিই দারুণ ছিল। সেখানে ড্রাম রাখা ছিল, আর বাচ্চারা আনন্দের সঙ্গে সেগুলো বাজাচ্ছিল। পুরো পরিবেশটাই ছিল প্রাণবন্ত ও পারিবারিক।”
অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রমগুলোর মধ্যে অন্যতম আকর্ষণ ছিল থমের তৈরি ‘পিস ভাইব্রেশন মেশিন’ বা ‘শান্তির কম্পন যন্ত্র’। এটি মূলত একটি সাইকেলের চাকা, যার সঙ্গে তারের সাহায্যে স্ফটিক ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। চাকা ঘোরার সময় স্পোকগুলো তারে আঘাত করলে এক ধরনের মধুর অনুরণন সৃষ্টি হয়।
নিজের উদ্ভাবিত যন্ত্রটির পাশে থম একটি হাতে লেখা বার্তাও প্রদর্শন করেন। সেখানে লেখা ছিল, “আমাদের সবার হৃদয়ের গভীরে শান্তির আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। বিশুদ্ধ উদ্দেশ্য নিয়ে চাকাটি ঘোরান এবং শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিন।”
এদিকে, অনুষ্ঠান উপভোগ করছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রোজভিলের বাসিন্দা জ্যামেল মরিস হাসিমুখে বলেন, “খুবই চমৎকার। আবহাওয়া দারুণ, মানুষের উপস্থিতিও অসাধারণ। ঈশ্বরের কৃপা অশেষ।”
Source & Photo: http://detroitnews.com
ডেট্রয়েট, ২০ জুন : ব্রায়ানা বার্ট দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, খাবার মানুষের মধ্যে সংযোগ গড়ে তুলতে পারে এবং ডেট্রয়েটবাসীদের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসতে সক্ষম।
রেডফোর্ড থার্স্টন স্কুলের ১৭ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থী শুক্রবার ডেট্রয়েট শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ‘রালফ সি. উইলসন জুনিয়র সেন্টেনিয়াল পার্কে’ আয়োজিত “ জুনটিন্থ অ্যাট উইলসন: দ্য স্টোরিজ অফ আস” অনুষ্ঠানে উপস্থিত শতাধিক মানুষের সামনে খাবারকে কেন্দ্র করে রচিত একটি কবিতা আবৃত্তি করেন।
কবিতায় তিনি বলেন, আমি এখানকার পরিবেশ ও আবহ পছন্দ করি; পছন্দ করি নানা বর্ণের মানুষের বৈচিত্র্য, আমাদের দেয়ালচিত্র এবং কৃষ্ণাঙ্গ বা বাদামী ত্বকের মাঝে থাকা প্রাণশক্তি...। আমরা অনেক খাই, কারণ আমরা সবসময় আরও বেশি কিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করি; আবার একই সঙ্গে কমের জন্যও ক্ষুধার্ত থাকি।”
বার্ট বলেন, খাবার এমন একটি বিষয় যার সঙ্গে প্রত্যেক মানুষেরই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা জড়িয়ে আছে। আগামী সেপ্টেম্বরে তিনি স্কুলের সিনিয়র বর্ষে পদার্পণ করবেন। তার ভাষায়, “খাবার সত্যিই মানুষকে একত্রিত করতে পারে।
‘হিউরন-ক্লিনটন মেট্রোপার্কস’-এর উদ্যোগে শুক্রবার অনুষ্ঠিত এই বিনামূল্যের অনুষ্ঠানটি ছিল মেট্রো ডেট্রয়েটজুড়ে ‘ জুনটিন্থ’ উপলক্ষে আয়োজিত একাধিক কর্মসূচির অন্যতম। উল্লেখ্য, জুনটিন্থ যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল ছুটির দিন, যা কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানদের দাসত্ব থেকে মুক্তির স্মৃতিকে সম্মান জানাতে পালিত হয়।
এ উপলক্ষে ডেট্রয়েটের ট্যাবারনাকল মিশনারি ব্যাপ্টিস্ট চার্চ একটি শোভাযাত্রার আয়োজন করে। পাশাপাশি চার্লস এইচ. রাইট মিউজিয়াম অব আফ্রিকান আমেরিকান হিস্ট্রি-তে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
রালফ সি. উইলসন জুনিয়র সেন্টেনিয়াল পার্কে পশ্চিম আফ্রিকার ঐতিহ্যবাহী ‘টকিং ড্রাম’-এর আদলে নির্মিত আটটি ভাস্কর্য প্রদর্শন করা হয়। সেখানে বিভিন্ন খাবার ও শিল্পকর্মের স্টলের পাশাপাশি ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে একটি ‘গেট আউট দ্য ভোট’ বুথও স্থাপন করা হয়, যা পরিচালনা করেন ওয়েইন কাউন্টি ক্লার্কের কার্যালয়ের কর্মীরা।
৩৮ বছর বয়সী টমাস উইলিস তাঁর ১২ বছর বয়সী মেয়ে লিসা উইলিসকে নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তাঁর মতে, এ ধরনের আয়োজন প্রমাণ করে যে ডেট্রয়েটের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে একত্রিত হতে পারে এবং ইতিবাচক সামাজিক বন্ধন গড়ে তুলতে সক্ষম।
ডেট্রয়েটের পূর্বাঞ্চলের বাসিন্দা টমাস বলেন, “চারপাশে তাকিয়ে দেখুন, এখানে কোনো সমস্যা নেই। ডেট্রয়েট সম্পর্কে সাধারণত নানা নেতিবাচক খবরই বেশি শোনা যায়। কিন্তু এমন আয়োজন মানুষকে ভিন্ন একটি চিত্র দেখায়। এটি সত্যিই ভালো লাগে। আমাদের আরও বেশি এমন অনুষ্ঠানের প্রয়োজন।”
শুক্রবারের অনুষ্ঠানে পরিবেশনকারীদের মধ্যে ছিলেন ‘ডেট্রয়েট ড্রাম অ্যান্ড ড্যান্স’ দলের সদস্য ডেনিস থম। ডেট্রয়েটের বাসিন্দা থম বলেন, “অনুষ্ঠানটি সত্যিই দারুণ ছিল। সেখানে ড্রাম রাখা ছিল, আর বাচ্চারা আনন্দের সঙ্গে সেগুলো বাজাচ্ছিল। পুরো পরিবেশটাই ছিল প্রাণবন্ত ও পারিবারিক।”
অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রমগুলোর মধ্যে অন্যতম আকর্ষণ ছিল থমের তৈরি ‘পিস ভাইব্রেশন মেশিন’ বা ‘শান্তির কম্পন যন্ত্র’। এটি মূলত একটি সাইকেলের চাকা, যার সঙ্গে তারের সাহায্যে স্ফটিক ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। চাকা ঘোরার সময় স্পোকগুলো তারে আঘাত করলে এক ধরনের মধুর অনুরণন সৃষ্টি হয়।
নিজের উদ্ভাবিত যন্ত্রটির পাশে থম একটি হাতে লেখা বার্তাও প্রদর্শন করেন। সেখানে লেখা ছিল, “আমাদের সবার হৃদয়ের গভীরে শান্তির আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। বিশুদ্ধ উদ্দেশ্য নিয়ে চাকাটি ঘোরান এবং শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিন।”
এদিকে, অনুষ্ঠান উপভোগ করছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রোজভিলের বাসিন্দা জ্যামেল মরিস হাসিমুখে বলেন, “খুবই চমৎকার। আবহাওয়া দারুণ, মানুষের উপস্থিতিও অসাধারণ। ঈশ্বরের কৃপা অশেষ।”
Source & Photo: http://detroitnews.com