ল্যান্সিং, ৭ জুলাই : মিশিগানজুড়ে সাইক্লোস্পোরিয়াসিস সংক্রমণের হার দ্রুত বাড়ছে। গত ২২ জুনের পর থেকে মিশিগান ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস (MDHHS) ৭০০-এর বেশি আক্রান্তের তথ্য শনাক্ত করেছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সংখ্যা রাজ্যে সাধারণত এক বছরে রেকর্ড হওয়া আক্রান্তের তুলনায় প্রায় ১৪ গুণ বেশি।
‘সাইক্লোস্পোরা কায়েটানেনসিস’ নামের অতি ক্ষুদ্র পরজীবীর কারণে এই সংক্রমণ হয়ে থাকে। বর্তমানে প্রাদুর্ভাবটি মূলত দক্ষিণ-পূর্ব মিশিগান এলাকায় সীমাবদ্ধ রয়েছে। এর মধ্যে মনরো কাউন্টিতে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে সংক্রমণের প্রকৃত উৎস এখনো শনাক্ত করতে পারেননি রাজ্য স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
লক্ষণগুলো জেনে রাখুন
সংক্রমণের পর সাধারণত ২ দিন থেকে ২ সপ্তাহের মধ্যে সাইক্লোস্পোরিয়াসিসের লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে। এর সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো পাতলা বা পানির মতো ডায়রিয়া, যা ঘন ঘন হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডায়রিয়া হঠাৎ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। এছাড়া পেটে মোচড় বা ব্যথা, পেট ফাঁপা, বমি বমি ভাব, ক্ষুধামন্দা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, ওজন কমে যাওয়া, পেটে গ্যাস জমা এবং কখনো কখনো হালকা জ্বর বা বমির মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসা না করলে এসব লক্ষণ কয়েক সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় ধরে স্থায়ী হতে পারে। অনেক সময় সাময়িকভাবে উপসর্গ কমে গেলেও পরে আবার ফিরে আসতে পারে।
শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখুন
ডায়রিয়া বা বমিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল পান করার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। বিশেষ করে তীব্র গরমের সময়ে শরীরে পানিশূন্যতার (ডিহাইড্রেশন) ঝুঁকি বেড়ে যায়, তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
পানিশূন্যতার লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত তৃষ্ণা, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, গাঢ় রঙের প্রস্রাব এবং স্বাভাবিকের তুলনায় কম প্রস্রাব হওয়া।
ছোট শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারা পানিশূন্যতার ক্ষেত্রে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া বা পরিপাকতন্ত্রের অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিলে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। বিশেষ করে, উপসর্গগুলো কয়েক দিনের বেশি স্থায়ী হলে বা তীব্র আকার ধারণ করলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সাইক্লোস্পোরা সংক্রমণ সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে চিকিৎসা করা যায়। সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে অসুস্থতার সময়কাল কমানো সম্ভব।
তবে সাধারণ বা রুটিন মল পরীক্ষায় অনেক সময় এই পরজীবী শনাক্ত নাও হতে পারে। তাই রোগীদের উচিত তাদের উপসর্গ সম্পর্কে চিকিৎসককে বিস্তারিত জানানো এবং সাইক্লোস্পোরার জন্য বিশেষ পরীক্ষা প্রয়োজন কি না, সে বিষয়ে পরামর্শ নেওয়া।
অন্যদের মধ্যে কি এটি ছড়াতে পারে?
পেটের অন্যান্য অনেক সংক্রমণের মতো সাইক্লোস্পোরা সাধারণত সরাসরি একজন ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির মধ্যে ছড়ায় না। সংক্রমণ ঘটানোর সক্ষমতা অর্জনের আগে এই পরজীবীকে পরিবেশের সংস্পর্শে এসে পরিপক্ব হতে হয়। এ কারণে একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সরাসরি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। সাধারণত দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে সাইক্লোস্পোরা সংক্রমণ ছড়িয়ে থাকে।
ঝুঁকি কমানোর উপায়
মিশিগানে ছড়িয়ে পড়া এই সংক্রমণের উৎস এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সাইক্লোস্পোরা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে খাদ্য নিরাপত্তার সাধারণ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। খাবার তৈরি বা খাওয়ার আগে হাত ধুয়ে নিন।
তাজা ফল ও শাকসবজি খাওয়ার আগে বা রান্নার আগে প্রবাহিত পরিষ্কার পানির নিচে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। শসা, তরমুজ বা শক্ত খোসাযুক্ত ফল ও সবজি পরিষ্কার করার জন্য পরিচ্ছন্ন ব্রাশ ব্যবহার করা যেতে পারে। ভ্রমণের সময় দূষিত হতে পারে এমন খাবার বা পানি গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, ফলমূল ও শাকসবজি ভালোভাবে ধুয়ে নিলে খাদ্যের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অনেক রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। তবে ভোক্তার কাছে পৌঁছানোর আগেই যদি এসব খাবারে সাইক্লোস্পোরা পরজীবীর সংক্রমণ ঘটে থাকে, তাহলে শুধু ধোয়ার মাধ্যমে তা সম্পূর্ণভাবে দূর নাও হতে পারে।
Source & Photo: http://detroitnews.com
‘সাইক্লোস্পোরা কায়েটানেনসিস’ নামের অতি ক্ষুদ্র পরজীবীর কারণে এই সংক্রমণ হয়ে থাকে। বর্তমানে প্রাদুর্ভাবটি মূলত দক্ষিণ-পূর্ব মিশিগান এলাকায় সীমাবদ্ধ রয়েছে। এর মধ্যে মনরো কাউন্টিতে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে সংক্রমণের প্রকৃত উৎস এখনো শনাক্ত করতে পারেননি রাজ্য স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
লক্ষণগুলো জেনে রাখুন
সংক্রমণের পর সাধারণত ২ দিন থেকে ২ সপ্তাহের মধ্যে সাইক্লোস্পোরিয়াসিসের লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে। এর সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো পাতলা বা পানির মতো ডায়রিয়া, যা ঘন ঘন হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডায়রিয়া হঠাৎ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। এছাড়া পেটে মোচড় বা ব্যথা, পেট ফাঁপা, বমি বমি ভাব, ক্ষুধামন্দা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, ওজন কমে যাওয়া, পেটে গ্যাস জমা এবং কখনো কখনো হালকা জ্বর বা বমির মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসা না করলে এসব লক্ষণ কয়েক সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় ধরে স্থায়ী হতে পারে। অনেক সময় সাময়িকভাবে উপসর্গ কমে গেলেও পরে আবার ফিরে আসতে পারে।
শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখুন
ডায়রিয়া বা বমিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল পান করার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। বিশেষ করে তীব্র গরমের সময়ে শরীরে পানিশূন্যতার (ডিহাইড্রেশন) ঝুঁকি বেড়ে যায়, তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
পানিশূন্যতার লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত তৃষ্ণা, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, গাঢ় রঙের প্রস্রাব এবং স্বাভাবিকের তুলনায় কম প্রস্রাব হওয়া।
ছোট শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারা পানিশূন্যতার ক্ষেত্রে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া বা পরিপাকতন্ত্রের অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিলে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। বিশেষ করে, উপসর্গগুলো কয়েক দিনের বেশি স্থায়ী হলে বা তীব্র আকার ধারণ করলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সাইক্লোস্পোরা সংক্রমণ সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে চিকিৎসা করা যায়। সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে অসুস্থতার সময়কাল কমানো সম্ভব।
তবে সাধারণ বা রুটিন মল পরীক্ষায় অনেক সময় এই পরজীবী শনাক্ত নাও হতে পারে। তাই রোগীদের উচিত তাদের উপসর্গ সম্পর্কে চিকিৎসককে বিস্তারিত জানানো এবং সাইক্লোস্পোরার জন্য বিশেষ পরীক্ষা প্রয়োজন কি না, সে বিষয়ে পরামর্শ নেওয়া।
অন্যদের মধ্যে কি এটি ছড়াতে পারে?
পেটের অন্যান্য অনেক সংক্রমণের মতো সাইক্লোস্পোরা সাধারণত সরাসরি একজন ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির মধ্যে ছড়ায় না। সংক্রমণ ঘটানোর সক্ষমতা অর্জনের আগে এই পরজীবীকে পরিবেশের সংস্পর্শে এসে পরিপক্ব হতে হয়। এ কারণে একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সরাসরি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। সাধারণত দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে সাইক্লোস্পোরা সংক্রমণ ছড়িয়ে থাকে।
ঝুঁকি কমানোর উপায়
মিশিগানে ছড়িয়ে পড়া এই সংক্রমণের উৎস এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সাইক্লোস্পোরা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে খাদ্য নিরাপত্তার সাধারণ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। খাবার তৈরি বা খাওয়ার আগে হাত ধুয়ে নিন।
তাজা ফল ও শাকসবজি খাওয়ার আগে বা রান্নার আগে প্রবাহিত পরিষ্কার পানির নিচে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। শসা, তরমুজ বা শক্ত খোসাযুক্ত ফল ও সবজি পরিষ্কার করার জন্য পরিচ্ছন্ন ব্রাশ ব্যবহার করা যেতে পারে। ভ্রমণের সময় দূষিত হতে পারে এমন খাবার বা পানি গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, ফলমূল ও শাকসবজি ভালোভাবে ধুয়ে নিলে খাদ্যের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অনেক রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। তবে ভোক্তার কাছে পৌঁছানোর আগেই যদি এসব খাবারে সাইক্লোস্পোরা পরজীবীর সংক্রমণ ঘটে থাকে, তাহলে শুধু ধোয়ার মাধ্যমে তা সম্পূর্ণভাবে দূর নাও হতে পারে।
Source & Photo: http://detroitnews.com