গর্ডি হাউ ইন্টারন্যাশনাল ব্রিজ/David Guralnick, The Detroit News
ডেট্রয়েট, ১২ জুলাই : অ্যাম্বাসেডর ব্রিজের ছায়াতলে অবস্থিত শহরের রিভারসাইড পার্কে দাঁড়িয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম ডেট্রয়েটের কয়েকজন দীর্ঘদিনের বাসিন্দা শুনলেন—‘গর্ডি হাউ ইন্টারন্যাশনাল ব্রিজ’ সম্ভবত চলতি মাসের শেষ দিকেই খুলে দেওয়া হতে পারে। তবে খবরটি তারা কতটা বিশ্বাস করবেন, তা নিয়ে তাদের মধ্যে ছিল সংশয়।
শনিবার সন্তানদের সঙ্গে বাস্কেটবল খেলার সময় ৪২ বছর বয়সী নেস্টর স্যান্ডোভাল বলেন, “মরুন পরিবার কি শেষ পর্যন্ত বুঝতে পেরেছে, কীভাবে তারা এখান থেকে নিজেদের লাভ নিশ্চিত করবে? আমি চাই ব্রিজটি চালু হোক। আমি আমার পরিবারকে নিয়ে সাইকেল চালিয়ে এই ব্রিজ পার হতে চাই। কিন্তু পুরো বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক জটিলতায় আটকে আছে।”
স্যান্ডোভাল অ্যাম্বাসেডর ব্রিজের মালিক মরুন পরিবারের কথা উল্লেখ করছিলেন। বিলিয়নিয়ার এই পরিবার কয়েক দশক ধরে গর্ডি হাউ ইন্টারন্যাশনাল ব্রিজ নির্মাণ ও চালুর বিরোধিতা করে আসছিল এবং এ নিয়ে ব্যাপক অর্থ ব্যয় করেছেন।
শুক্রবার কানাডার কর্মকর্তারা জানান, কানাডা ও মিশিগানের মধ্যে হওয়া চুক্তি এবং মার্কিন সরকারের সহযোগিতার আওতায় আগামী ২৭ জুলাই গর্ডি হাউ ইন্টারন্যাশনাল ব্রিজ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
এই ঘোষণা আসে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্সের বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার আলোচনার মাধ্যমে হওয়া চুক্তির ভিত্তিতে যান চলাচলের জন্য ব্রিজটি শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে।
হোয়াইট লেক টাউনশিপের বাসিন্দা রজার্স শুক্রবার রেডিও উপস্থাপক পল ডব্লিউ. স্মিথের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের সঙ্গে তার আলোচনার বিষয়ও উল্লেখ করেন। রজার্স বলেন, “আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হবে।”
প্রায় ৪.৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত ছয় লেনের এই সেতুর উদ্বোধন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা চলছিল। তবে গত মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হঠাৎ করে উদ্বোধনের তারিখ পিছিয়ে দেওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দেয়।
পরে জানা যায়, উদ্বোধনের তারিখ স্থগিত করার সিদ্ধান্তের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ‘অ্যাম্বাসেডর ব্রিজ কোম্পানি’র মালিক ম্যাথিউ মোরুন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।
দক্ষিণ-পশ্চিম ডেট্রয়েটের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা ৮০ বছর বয়সী স্টিভ ওয়াকার শুক্রবার প্রকাশিত খবর নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি ‘গর্ডি হাউ ব্রিজ’ নির্মাণের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে মতামত প্রদানকারী একটি কমিউনিটি উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ছিলেন।
শনিবার ওয়াকার বলেন, “আমি ট্রাম্পকে বিশ্বাস করি না, তাই শেষ পর্যন্ত কী হবে তা বলা কঠিন। নতুন এই সেতুর নির্মাণকাজ আটকে দিতে মরুন পরিবার রিপাবলিকান পার্টি ও অন্যান্য পক্ষকে বিপুল অর্থ দিয়েছে—এ কারণে পুরো বিষয়টি নিয়ে আমি এখনো নিশ্চিত নই।”
ওয়াকার আরও উল্লেখ করেন, অ্যাম্বাসেডর ব্রিজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ-পশ্চিম ডেট্রয়েট এলাকায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পত্তির মালিক। এ বিষয়টি নিয়ে মরুন পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ, মতবিরোধ ও বিরোধ চলে আসছে।
ডেট্রয়েট সিটি কাউন্সিলের সদস্য গ্যাব্রিয়েলা সান্তিয়াগো-রোমেরো—যার নির্বাচনী এলাকার আওতায় শহরের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ রয়েছে—শনিবার বলেন, নতুন এই সেতু চালু হওয়ার বিষয়টি যেমন “উত্তেজনাপূর্ণ”, তেমনি কিছুটা “উদ্বেগজনকও”। কারণ স্থানীয় সম্প্রদায়ের অনেকেই বছরের পর বছর ধরে সেতুটির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে কাজ করে আসছেন। তিনি বলেন, “স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কানাডা আমাদের সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে।”
তিনি জানান, এ প্রক্রিয়ায় ৪৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের বিভিন্ন চুক্তি নিয়ে আলোচনা ও সমঝোতা হয়েছে। এসব চুক্তির মধ্যে পরিবেশ সুরক্ষা, কিছু বাসিন্দার পুনর্বাসন, বাড়িঘর সংস্কার এবং আবাসিক এলাকায় ট্রাক চলাচলের চাপ কমানোর মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সান্তিয়াগো-রোমেরো বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, এই সেতু পরিস্থিতির উন্নতি করবে। আর সত্যি বলতে, আমি এই সেতু দিয়ে হেঁটে বা সাইকেল চালিয়ে পার হওয়ার অপেক্ষায় আছি—যা বর্তমানে অ্যাম্বাসেডর ব্রিজের ক্ষেত্রে সম্ভব নয়।”
Source & Photo: http://detroitnews.com
ডেট্রয়েট, ১২ জুলাই : অ্যাম্বাসেডর ব্রিজের ছায়াতলে অবস্থিত শহরের রিভারসাইড পার্কে দাঁড়িয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম ডেট্রয়েটের কয়েকজন দীর্ঘদিনের বাসিন্দা শুনলেন—‘গর্ডি হাউ ইন্টারন্যাশনাল ব্রিজ’ সম্ভবত চলতি মাসের শেষ দিকেই খুলে দেওয়া হতে পারে। তবে খবরটি তারা কতটা বিশ্বাস করবেন, তা নিয়ে তাদের মধ্যে ছিল সংশয়।
শনিবার সন্তানদের সঙ্গে বাস্কেটবল খেলার সময় ৪২ বছর বয়সী নেস্টর স্যান্ডোভাল বলেন, “মরুন পরিবার কি শেষ পর্যন্ত বুঝতে পেরেছে, কীভাবে তারা এখান থেকে নিজেদের লাভ নিশ্চিত করবে? আমি চাই ব্রিজটি চালু হোক। আমি আমার পরিবারকে নিয়ে সাইকেল চালিয়ে এই ব্রিজ পার হতে চাই। কিন্তু পুরো বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক জটিলতায় আটকে আছে।”
স্যান্ডোভাল অ্যাম্বাসেডর ব্রিজের মালিক মরুন পরিবারের কথা উল্লেখ করছিলেন। বিলিয়নিয়ার এই পরিবার কয়েক দশক ধরে গর্ডি হাউ ইন্টারন্যাশনাল ব্রিজ নির্মাণ ও চালুর বিরোধিতা করে আসছিল এবং এ নিয়ে ব্যাপক অর্থ ব্যয় করেছেন।
শুক্রবার কানাডার কর্মকর্তারা জানান, কানাডা ও মিশিগানের মধ্যে হওয়া চুক্তি এবং মার্কিন সরকারের সহযোগিতার আওতায় আগামী ২৭ জুলাই গর্ডি হাউ ইন্টারন্যাশনাল ব্রিজ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
এই ঘোষণা আসে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্সের বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার আলোচনার মাধ্যমে হওয়া চুক্তির ভিত্তিতে যান চলাচলের জন্য ব্রিজটি শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে।
হোয়াইট লেক টাউনশিপের বাসিন্দা রজার্স শুক্রবার রেডিও উপস্থাপক পল ডব্লিউ. স্মিথের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের সঙ্গে তার আলোচনার বিষয়ও উল্লেখ করেন। রজার্স বলেন, “আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হবে।”
প্রায় ৪.৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত ছয় লেনের এই সেতুর উদ্বোধন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা চলছিল। তবে গত মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হঠাৎ করে উদ্বোধনের তারিখ পিছিয়ে দেওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দেয়।
পরে জানা যায়, উদ্বোধনের তারিখ স্থগিত করার সিদ্ধান্তের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ‘অ্যাম্বাসেডর ব্রিজ কোম্পানি’র মালিক ম্যাথিউ মোরুন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।
দক্ষিণ-পশ্চিম ডেট্রয়েটের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা ৮০ বছর বয়সী স্টিভ ওয়াকার শুক্রবার প্রকাশিত খবর নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি ‘গর্ডি হাউ ব্রিজ’ নির্মাণের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে মতামত প্রদানকারী একটি কমিউনিটি উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ছিলেন।
শনিবার ওয়াকার বলেন, “আমি ট্রাম্পকে বিশ্বাস করি না, তাই শেষ পর্যন্ত কী হবে তা বলা কঠিন। নতুন এই সেতুর নির্মাণকাজ আটকে দিতে মরুন পরিবার রিপাবলিকান পার্টি ও অন্যান্য পক্ষকে বিপুল অর্থ দিয়েছে—এ কারণে পুরো বিষয়টি নিয়ে আমি এখনো নিশ্চিত নই।”
ওয়াকার আরও উল্লেখ করেন, অ্যাম্বাসেডর ব্রিজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ-পশ্চিম ডেট্রয়েট এলাকায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পত্তির মালিক। এ বিষয়টি নিয়ে মরুন পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ, মতবিরোধ ও বিরোধ চলে আসছে।
ডেট্রয়েট সিটি কাউন্সিলের সদস্য গ্যাব্রিয়েলা সান্তিয়াগো-রোমেরো—যার নির্বাচনী এলাকার আওতায় শহরের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ রয়েছে—শনিবার বলেন, নতুন এই সেতু চালু হওয়ার বিষয়টি যেমন “উত্তেজনাপূর্ণ”, তেমনি কিছুটা “উদ্বেগজনকও”। কারণ স্থানীয় সম্প্রদায়ের অনেকেই বছরের পর বছর ধরে সেতুটির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে কাজ করে আসছেন। তিনি বলেন, “স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কানাডা আমাদের সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে।”
তিনি জানান, এ প্রক্রিয়ায় ৪৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের বিভিন্ন চুক্তি নিয়ে আলোচনা ও সমঝোতা হয়েছে। এসব চুক্তির মধ্যে পরিবেশ সুরক্ষা, কিছু বাসিন্দার পুনর্বাসন, বাড়িঘর সংস্কার এবং আবাসিক এলাকায় ট্রাক চলাচলের চাপ কমানোর মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সান্তিয়াগো-রোমেরো বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, এই সেতু পরিস্থিতির উন্নতি করবে। আর সত্যি বলতে, আমি এই সেতু দিয়ে হেঁটে বা সাইকেল চালিয়ে পার হওয়ার অপেক্ষায় আছি—যা বর্তমানে অ্যাম্বাসেডর ব্রিজের ক্ষেত্রে সম্ভব নয়।”
Source & Photo: http://detroitnews.com