মেট্রো ডেট্রয়েটে মানব পাচার চক্র  

ম্যাকম্ব কাউন্টিতে মানব পাচার মামলায় চীনা নাগরিকের ‘নো কনটেস্ট’ আবেদন

আপলোড সময় : ২৩-০৭-২০২৬ ০২:০৭:৩৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৩-০৭-২০২৬ ০২:০৯:১৩ অপরাহ্ন
মেট্রো ডেট্রয়েট, ২৩ জুলাই: মেট্রো ডেট্রয়েট এলাকায় সক্রিয় একটি আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে এক চীনা নাগরিক আদালতে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ৪৬ বছর বয়সী জিংইউ জিন মঙ্গলবার ম্যাকম্ব কাউন্টি সার্কিট কোর্টে একটি অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে হাজির হয়ে তার অবস্থান জানান। মিশিগান অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, জিন অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন। তবে আদালতের রেকর্ডে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি ‘নো কনটেস্ট’ আবেদন করেছেন—অর্থাৎ অভিযোগের বিরুদ্ধে আপত্তি না জানিয়ে মামলার আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সম্মতি দিয়েছেন। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর জিনের সাজা ঘোষণা করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এ মামলায় তার সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
জিনের আইনজীবী এলিয়াস মুয়াওয়াদ বৃহস্পতিবার বলেন, “মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। আমার মক্কেলের সামনে দুটি পথ ছিল—একটি হলো বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়া, অন্যটি হলো এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছানো, যেখানে তার কারাদণ্ডের মেয়াদ সর্বোচ্চ ৪০ মাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। দীর্ঘ চিন্তাভাবনার পর তিনি ‘নো কনটেস্ট’ (অভিযোগের বিরুদ্ধে লড়াই না করার) সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”
তিনি আরও জানান, সাজা ভোগের পরও তার মক্কেলকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্টেশন) ঝুঁকির মুখোমুখি হতে হবে। মুয়াওয়াদ বলেন, “সাজা শেষ হওয়ার পরও আদালতের সঙ্গে তার আইনি প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হবে না। তবে তিনি চেয়েছিলেন বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তি করতে। আমরা সবাই মনে করি, তিনি সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন।”
সরকারি কৌঁসুলিদের অভিযোগ, অভিযুক্ত নারী একটি আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্র পরিচালনা করতেন। এই চক্রের মাধ্যমে ওয়েইন ও ম্যাকম্ব কাউন্টিতে অবস্থিত চারটি অবৈধ ম্যাসাজ পার্লারে নারীদের দিয়ে যৌন ব্যবসা করানো হতো। কর্মকর্তারা জানান, ভুক্তভোগীরা সবাই চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাপ্তবয়স্ক নারী ছিলেন এবং তারা বৈধ পথেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন।
ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ২০২৪ সালে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোতে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় পুলিশ হুয়াজি পিয়াও (৬০) নামে এক চীনা নারীকে গ্রেপ্তার করে। কর্তৃপক্ষের দাবি, তিনি একাধিক পার্লারের কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করেছিলেন। একই ঘটনায় ক্লিনটন টাউনশিপের বাসিন্দা জন ভিলাসুরদাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিমানবন্দর ও পার্লারগুলোর মধ্যে ভুক্তভোগী নারীদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করতেন।
অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দোষ স্বীকার করার পর গত অক্টোবরে ওয়েইন কাউন্টি সার্কিট কোর্টের একজন বিচারক পিয়াওকে ৪০ মাস থেকে সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, ম্যাকম্ব কাউন্টি সার্কিট কোর্টে ভিলাসুরদার বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, নিউইয়র্কের ফ্লাশিংয়ে বসবাসকারী জিন দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক ছিলেন। এগুলো হলো সেন্ট ক্লেয়ার শোরসের ‘১১১ হিলিং স্টুডিও’ এবং স্টার্লিং হাইটসের ‘এএম হিলিং স্টুডিও’।
২০২৫ সালের জুনে একজন ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট বিচারক জিনকে ছয়টি গুরুতর অপরাধের (ফেলোনি) অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার নির্দেশ দেন। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা চক্র পরিচালনা, অপরাধমূলক চক্র পরিচালনার ষড়যন্ত্র (যার সর্বোচ্চ শাস্তি ২০ বছরের কারাদণ্ড), পতিতাবৃত্তি থেকে অর্জিত অর্থ গ্রহণ (সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড), পতিতাবৃত্তির উদ্দেশ্যে কাউকে পরিবহন করা (সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড), অর্থ পাচার (সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড) এবং পতিতালয় পরিচালনা (সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড)।
আদালতের নথি অনুযায়ী, গত সপ্তাহের মঙ্গলবার জুরি ট্রায়াল বা জুরি বোর্ডের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে জিন অপরাধমূলক চক্র পরিচালনার অভিযোগে ‘নো কনটেস্ট’ (অর্থাৎ অভিযোগের বিরুদ্ধে লড়াই না করে শাস্তি মেনে নেওয়া) আবেদন করায় বিচার কার্যক্রম বাতিল করা হয়।
নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই আবেদনের বিনিময়ে সরকারি কৌঁসুলিরা (প্রসিকিউটররা) অন্যান্য অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন। একই সঙ্গে জিনের জন্য ৪০ মাস থেকে সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের সাজা সুপারিশ করা হয়েছে।
মিশিগানের অ্যাটর্নি জেনারেল ডানা নেসেল এক বিবৃতিতে বলেন, “এই অবৈধ কার্যক্রমটি ছিল আমাদের অঙ্গরাজ্যে উন্মোচিত সবচেয়ে বড় জোরপূর্বক বাণিজ্যিক যৌন শোষণ চক্রগুলোর মধ্যে একটি। এই চক্রটি এমন অনেক ভুক্তভোগীকে ফাঁদে ফেলেছিল, যাদের সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে সরাসরি আমাদের কমিউনিটিতে পাচার করে আনা হয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন, “জিনের এই দোষ স্বীকারের বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, মিশিগান এ ধরনের জঘন্য মানব পাচার ও শোষণমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য কোনো নিরাপদ আশ্রয়স্থল হবে না। এসব নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং পাচারকারীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে অঙ্গরাজ্য, স্থানীয় ও ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করতে আমার কার্যালয় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
এই মামলাটি মিশিগানে সাম্প্রতিক মানব পাচারের আরও কয়েকটি ঘটনার ধারাবাহিকতায় এসেছে। চলতি মাসের শুরুতে, ওয়ারেনের একটি হোটেলে এক নারীকে মানব পাচারের অভিযোগে জড়িত থাকার দায়ে ডেট্রয়েটের এক ব্যক্তিকে সাত থেকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
গত মার্চ মাসে, ইউ.এস. ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে সাম্পটার টাউনশিপের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন পাচার এবং তাদের মধ্যে অন্তত একজনের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ আনা হয়।
এর আগে ফেব্রুয়ারিতে, মানব পাচার চক্র পরিচালনার অভিযোগে মেট্রো ডেট্রয়েট এলাকার তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওকল্যান্ড কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে অভিযোগ দায়ের করা হয়।
Source & Photo: http://detroitnews.com
 

সম্পাদকীয় :

চিনু মৃধা : সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

সম্পাদক ও প্রকাশক : চিন্ময় আচার্য্য, নির্বাহী সম্পাদক : কামাল মোস্তফা, সহযোগী সম্পাদক : আশিক রহমান,

বার্তা সম্পাদক : তোফায়েল রেজা সোহেল, ফিচার এডিটর : সৈয়দ আসাদুজ্জামান সোহান, স্টাফ রিপোর্টার : মৃদুল কান্তি সরকার।

অফিস :

22021 Memphis Ave Warren, MI 48091

Phone : +1 (313) 312-7006

Email : [email protected]

Website : www.suprobhatmichigan.com