নিহত দম্পতি ম্যান্ডি ক্যারোলকিউইচ (৩৯) ও ক্রিস ক্যারোলকিউইচ (৪৭)। ছবিতে তাঁদের ছয় সন্তান, যাদের বয়স ৫ থেকে ১৫ বছর/Jennifer Annibal/
গ্র্যান্ড হ্যাভেন টাউনশিপ, ২৭ জুলাই : অটোয়া কাউন্টির গ্র্যান্ড হ্যাভেন টাউনশিপে এক মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারানো এক দম্পতি ও ছয় সন্তানের পরিচয় স্বজনরা নিশ্চিত করেছেন। নিহত দম্পতি হলেন ম্যান্ডি ক্যারোলকিউইচ (৩৯) ও ক্রিস ক্যারোলকিউইচ (৪৭)। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন ম্যান্ডির সৎ বাবা স্টিভ লউইল। তিনি জানান, পরিবারের অন্য সদস্যদের ময়নাতদন্তের ফলাফল এবং অটোয়া কাউন্টি শেরিফ বিভাগের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি ও তাঁর স্ত্রী। এরপরই তারা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবেন।
অটোয়া কাউন্টি শেরিফ বিভাগের ক্যাপ্টেন জেক স্পার্কস শুক্রবার সাংবাদিকদের জানান, গ্র্যান্ড হ্যাভেন টাউনশিপের রিভারসাইড ট্রেইলের ১৪৯০০ ব্লকের একটি ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন বাড়িতে দমকলকর্মী ও তদন্তকারীরা প্রবেশ করে আটজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। নিহতদের মধ্যে দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী ছয় শিশু রয়েছে। ক্যাপ্টেন স্পার্কস জানান, কয়েকজনের শরীরে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাটির প্রকৃত কারণ এবং মৃত্যুর পরিস্থিতি উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
নিহত ম্যান্ডি ক্যারোলকিউইচের বোন মলি সেসনা ফেসবুকে এ-সংক্রান্ত একটি সংবাদ শেয়ার করে লেখেন, "আমার ছোট বোন ম্যান্ডি, তার স্বামী এবং আমার ছয় ভাইজি-ভাইপো।" তিনি লেখেন, পুরো ঘটনাই এখন তাঁর কাছে "অস্পষ্ট" মনে হচ্ছে এবং সবাইকে পরিবারের জন্য প্রার্থনা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান।
আরেকটি পোস্টে তিনি লেখেন, "আমাদের হৃদয় পুরোপুরি ভেঙে গেছে। 'মর্মান্তিক' শব্দটিও এই ঘটনার ভয়াবহতা বোঝানোর জন্য যথেষ্ট নয়।"
এদিকে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে গ্র্যান্ড হ্যাভেন এরিয়া পাবলিক স্কুলসের একটি ফেসবুক পোস্টে ম্যান্ডি ক্যারোলকিউইচকে বিশেষভাবে সম্মানিত করা হয়েছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, কর্মীদের অসাধারণ অবদানকে স্বীকৃতি দিতে চালু করা "গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড মোমেন্টস" কর্মসূচির আওতায় তাঁকে সহকর্মীদের মনোনয়নের ভিত্তিতে নির্বাচিত করা হয়।
পোস্টে বলা হয়, পিচ প্লেইনসের প্রিমিয়ার সাবস্টিটিউট টিচার (বিকল্প শিক্ষক) হিসেবে আমান্ডা "ম্যান্ডি" ক্যারোলকিউইচ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সবসময় দায়িত্বের সীমার বাইরে গিয়ে কাজ করতেন। বিশেষ করে কোনো শিক্ষার্থী কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেলে তিনি সহানুভূতি, ধৈর্য ও আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের পাশে দাঁড়াতেন।
স্কুল কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, ম্যান্ডি তাঁর কাজে সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও ভালোবাসা উজাড় করে দিতেন। যেখানে প্রয়োজন সেখানেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতেন এবং পিচ প্লেইনসকে শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য আরও উন্নত একটি শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেন।
পশ্চিম মিশিগানের একটি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের পর একই পরিবারের আট সদস্যকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে কর্তৃপক্ষ জানায়, নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে গ্র্যান্ড হ্যাভেন এরিয়া পাবলিক স্কুলস। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শোকাহত শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও কর্মীদের জন্য মানসিক সহায়তা (কাউন্সেলিং) এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।
শুক্রবার স্কুল ডিস্ট্রিক্টের উদ্দেশে পাঠানো এক চিঠিতে সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন পারকোভস্কি বলেন, "তদন্তে শেষ পর্যন্ত যে তথ্যই উঠে আসুক না কেন, এটি আমাদের সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্বজনদের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা জানাই।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা জানি, আমাদের সম্প্রদায়ের অনেকেই এই ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত। অনেকের পক্ষেই এমন একটি হৃদয়বিদারক সংবাদ মেনে নেওয়া এবং এর মানসিক অভিঘাত সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে।"
গ্র্যান্ড হ্যাভেন টাউনশিপের রিভারসাইড ট্রেইল এলাকার বাসিন্দাদের কাছে শুক্রবারের ঘটনাটি ছিল একেবারেই অকল্পনীয়। অগ্নিকাণ্ডে বিধ্বস্ত বাড়ি থেকে মাত্র কয়েকটি বাড়ি দূরে প্রায় ২৪ বছর ধরে বসবাস করছেন মার্ক ব্রিনিনস্টুল। তিনি ইউএসএ টুডেকে বলেন, এত দীর্ঘ সময় ধরে এই এলাকায় থাকলেও এমন মর্মান্তিক ঘটনার মুখোমুখি তিনি কখনো হননি।
ব্রিনিনস্টুল জানান, এলাকাটি সাধারণত অত্যন্ত শান্ত ও নিরিবিলি। কিন্তু শুক্রবারের ঘটনার পর পুরো পাড়া যেন মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায়। তিনি বলেন, এই ট্র্যাজেডি তাঁকে গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য করেছে। তাঁর ভাষায়, "এলাকার অনেক পরিবারই—আমাদের পরিবারও তার ব্যতিক্রম নয়—নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। চলাফেরার সময় হয়তো কেবল হাত নেড়ে বা মাথা নেড়ে একে অপরকে অভিবাদন জানায়।
তিনি আরও বলেন, "হয়তো এই ঘটনা আমাদের একটি শিক্ষা দেয়—প্রতিবেশীদের আরও ভালোভাবে জানার এবং তাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য আমাদের সচেতনভাবে এগিয়ে আসা উচিত। আমি ব্যক্তিগতভাবে সেই চেষ্টা করব এবং এ ধরনের উদ্যোগকে আরও উৎসাহিত করব।"
Source & Photo: http://detroitnews.com
গ্র্যান্ড হ্যাভেন টাউনশিপ, ২৭ জুলাই : অটোয়া কাউন্টির গ্র্যান্ড হ্যাভেন টাউনশিপে এক মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারানো এক দম্পতি ও ছয় সন্তানের পরিচয় স্বজনরা নিশ্চিত করেছেন। নিহত দম্পতি হলেন ম্যান্ডি ক্যারোলকিউইচ (৩৯) ও ক্রিস ক্যারোলকিউইচ (৪৭)। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন ম্যান্ডির সৎ বাবা স্টিভ লউইল। তিনি জানান, পরিবারের অন্য সদস্যদের ময়নাতদন্তের ফলাফল এবং অটোয়া কাউন্টি শেরিফ বিভাগের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি ও তাঁর স্ত্রী। এরপরই তারা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবেন।
অটোয়া কাউন্টি শেরিফ বিভাগের ক্যাপ্টেন জেক স্পার্কস শুক্রবার সাংবাদিকদের জানান, গ্র্যান্ড হ্যাভেন টাউনশিপের রিভারসাইড ট্রেইলের ১৪৯০০ ব্লকের একটি ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন বাড়িতে দমকলকর্মী ও তদন্তকারীরা প্রবেশ করে আটজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। নিহতদের মধ্যে দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী ছয় শিশু রয়েছে। ক্যাপ্টেন স্পার্কস জানান, কয়েকজনের শরীরে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাটির প্রকৃত কারণ এবং মৃত্যুর পরিস্থিতি উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
নিহত ম্যান্ডি ক্যারোলকিউইচের বোন মলি সেসনা ফেসবুকে এ-সংক্রান্ত একটি সংবাদ শেয়ার করে লেখেন, "আমার ছোট বোন ম্যান্ডি, তার স্বামী এবং আমার ছয় ভাইজি-ভাইপো।" তিনি লেখেন, পুরো ঘটনাই এখন তাঁর কাছে "অস্পষ্ট" মনে হচ্ছে এবং সবাইকে পরিবারের জন্য প্রার্থনা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান।
আরেকটি পোস্টে তিনি লেখেন, "আমাদের হৃদয় পুরোপুরি ভেঙে গেছে। 'মর্মান্তিক' শব্দটিও এই ঘটনার ভয়াবহতা বোঝানোর জন্য যথেষ্ট নয়।"
এদিকে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে গ্র্যান্ড হ্যাভেন এরিয়া পাবলিক স্কুলসের একটি ফেসবুক পোস্টে ম্যান্ডি ক্যারোলকিউইচকে বিশেষভাবে সম্মানিত করা হয়েছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, কর্মীদের অসাধারণ অবদানকে স্বীকৃতি দিতে চালু করা "গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড মোমেন্টস" কর্মসূচির আওতায় তাঁকে সহকর্মীদের মনোনয়নের ভিত্তিতে নির্বাচিত করা হয়।
পোস্টে বলা হয়, পিচ প্লেইনসের প্রিমিয়ার সাবস্টিটিউট টিচার (বিকল্প শিক্ষক) হিসেবে আমান্ডা "ম্যান্ডি" ক্যারোলকিউইচ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সবসময় দায়িত্বের সীমার বাইরে গিয়ে কাজ করতেন। বিশেষ করে কোনো শিক্ষার্থী কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেলে তিনি সহানুভূতি, ধৈর্য ও আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের পাশে দাঁড়াতেন।
স্কুল কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, ম্যান্ডি তাঁর কাজে সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও ভালোবাসা উজাড় করে দিতেন। যেখানে প্রয়োজন সেখানেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতেন এবং পিচ প্লেইনসকে শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য আরও উন্নত একটি শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেন।
পশ্চিম মিশিগানের একটি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের পর একই পরিবারের আট সদস্যকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে কর্তৃপক্ষ জানায়, নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে গ্র্যান্ড হ্যাভেন এরিয়া পাবলিক স্কুলস। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শোকাহত শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও কর্মীদের জন্য মানসিক সহায়তা (কাউন্সেলিং) এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।
শুক্রবার স্কুল ডিস্ট্রিক্টের উদ্দেশে পাঠানো এক চিঠিতে সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন পারকোভস্কি বলেন, "তদন্তে শেষ পর্যন্ত যে তথ্যই উঠে আসুক না কেন, এটি আমাদের সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্বজনদের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা জানাই।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা জানি, আমাদের সম্প্রদায়ের অনেকেই এই ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত। অনেকের পক্ষেই এমন একটি হৃদয়বিদারক সংবাদ মেনে নেওয়া এবং এর মানসিক অভিঘাত সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে।"
গ্র্যান্ড হ্যাভেন টাউনশিপের রিভারসাইড ট্রেইল এলাকার বাসিন্দাদের কাছে শুক্রবারের ঘটনাটি ছিল একেবারেই অকল্পনীয়। অগ্নিকাণ্ডে বিধ্বস্ত বাড়ি থেকে মাত্র কয়েকটি বাড়ি দূরে প্রায় ২৪ বছর ধরে বসবাস করছেন মার্ক ব্রিনিনস্টুল। তিনি ইউএসএ টুডেকে বলেন, এত দীর্ঘ সময় ধরে এই এলাকায় থাকলেও এমন মর্মান্তিক ঘটনার মুখোমুখি তিনি কখনো হননি।
ব্রিনিনস্টুল জানান, এলাকাটি সাধারণত অত্যন্ত শান্ত ও নিরিবিলি। কিন্তু শুক্রবারের ঘটনার পর পুরো পাড়া যেন মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায়। তিনি বলেন, এই ট্র্যাজেডি তাঁকে গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য করেছে। তাঁর ভাষায়, "এলাকার অনেক পরিবারই—আমাদের পরিবারও তার ব্যতিক্রম নয়—নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। চলাফেরার সময় হয়তো কেবল হাত নেড়ে বা মাথা নেড়ে একে অপরকে অভিবাদন জানায়।
তিনি আরও বলেন, "হয়তো এই ঘটনা আমাদের একটি শিক্ষা দেয়—প্রতিবেশীদের আরও ভালোভাবে জানার এবং তাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য আমাদের সচেতনভাবে এগিয়ে আসা উচিত। আমি ব্যক্তিগতভাবে সেই চেষ্টা করব এবং এ ধরনের উদ্যোগকে আরও উৎসাহিত করব।"
Source & Photo: http://detroitnews.com