৫ আগস্ট, বুধবার, জনসাধারণের জন্য বিনামূল্যে চলাচলের সুযোগ চালুর প্রথম দিনে ভোর থেকেই পথচারীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যবর্তী ডেট্রয়েট নদীর ওপর নির্মিত ‘গর্ডি হাও’ ব্রিজ। দুই দেশের সংযোগকারী এই সেতু দিয়ে প্রথমবারের মতো সাধারণ মানুষের জন্য হেঁটে ও সাইকেলে চলাচলের সুযোগ উন্মুক্ত করা হয়েছে/Jose Juarez, Special To The Detroit News
ডেট্রয়েট, ৭ আগস্ট: হাসি-আনন্দ, সেলফি আর গাড়ির হর্নের শব্দে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছিল চারপাশ। ‘গোর্ডি হাউ ইন্টারন্যাশনাল ব্রিজ’-এর বহুমুখী চলাচলের পথ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার পরদিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্বোধনের দিনে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ জন পথচারী, দৌড়বিদ ও সাইকেল আরোহী ডেট্রয়েট ও উইন্ডসরের মধ্যে সেতুটি পার হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সেতুর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। এর আগে বুধবার সূর্যোদয়ের আগেই সেতু এলাকায় মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। সেতু পার হওয়ার ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার অংশ হতে অনেকেই ভোর থেকেই সেখানে জড়ো হন।
দিনভর সেতু এলাকায় বিরাজ করে উৎসবমুখর পরিবেশ। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার প্রতীকী পোশাক ও স্মারক পরিহিত মানুষজন হেঁটে, দৌড়ে এবং গল্প-আড্ডায় অংশ নেন। অনেকে ‘গোর্ডি হাউ’–সংক্রান্ত বিভিন্ন স্মারক পণ্য কেনেন। কেউ সাধারণ সাইকেল, কেউ এক-চাকার সাইকেল (ইউনিসাইকেল), আবার কেউ ট্যান্ডেম বাইক নিয়ে সেতু পার হন।
অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই জানান, উদ্বোধনী দিনে সেতু পার হওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁদের কাছে ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। ডেট্রয়েটের ৩১ বছর বয়সী বাসিন্দা মার্সেল মারে ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের দিকের প্রবেশপথে এসে লাইনের একেবারে সামনে দাঁড়ান। সেতু পার হওয়ার সময় তিনি তাঁর ছেলের ‘মাইলস মোরালেস স্পাইডার-ম্যান’ পুতুলটি পিঠে বেঁধে নিয়েছিলেন। তিনি জানান, পুতুলটি তাঁকে পুরো পথ অতিক্রম করতে বাড়তি অনুপ্রেরণা দিয়েছে।
অনেক অংশগ্রহণকারী আবার পারিবারিক ঐতিহ্য ও প্রিয়জনদের স্মৃতিকে সম্মান জানাতেও এই ঐতিহাসিক সেতু পার হওয়ার সুযোগকে বিশেষভাবে নিয়েছেন।
৭০ বছর বয়সী ক্লিফটন শার্প বলেন, তিনি তাঁর প্রপিতামহের রেখে যাওয়া একটি ঐতিহ্য ধরে রাখতে চেয়েছেন। তাঁর প্রপিতামহ ছিলেন প্রথম দিকের সেই আফ্রিকান-আমেরিকানদের একজন, যাঁরা পায়ে হেঁটে অ্যাম্বাসেডর ব্রিজ পার হয়েছিলেন।
অন্যদিকে, ওয়ান্ডটের বাসিন্দা কেলি কুক সাইকেল চালিয়ে সেতু পার হন তাঁর প্রয়াত বাবার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। তাঁর বাবা পেশায় একজন আয়রন-ওয়ার্কার (লোহার কাঠামোর কারিগর) ছিলেন এবং একসময় অ্যাম্বাসেডর ব্রিজের মেরামত কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
প্রায় ৪.৫৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত সেতুটিতে যানবাহন চলাচল শুরুর এক সপ্তাহের কিছু বেশি সময় পর পথচারী ও সাইকেল আরোহীদের জন্য একটি বিশেষ টোলমুক্ত পথ চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে পায়ে হেঁটে ও সাইকেলে যাতায়াতের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে এই পথ ব্যবহারকারীদের অবশ্যই কাস্টমস বা শুল্ক বিভাগের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে। ভ্রমণের সময় পাসপোর্ট, নেক্সাস (NEXUS) কার্ড অথবা মিশিগান এনহ্যান্সড ড্রাইভার্স লাইসেন্স বা আইডি-এর মতো অনুমোদিত ভ্রমণ নথিপত্র সঙ্গে রাখতে হবে।
কর্মকর্তাদের ধারণা অনুযায়ী, কাস্টমস প্রক্রিয়ার সময় বাদ দিলে সাইকেলে সেতুটি অতিক্রম করতে প্রায় ২০ মিনিট এবং পায়ে হেঁটে পার হতে প্রায় ৪৫ মিনিট সময় লাগবে।
Source & Photo: http://detroitnews.com
ডেট্রয়েট, ৭ আগস্ট: হাসি-আনন্দ, সেলফি আর গাড়ির হর্নের শব্দে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছিল চারপাশ। ‘গোর্ডি হাউ ইন্টারন্যাশনাল ব্রিজ’-এর বহুমুখী চলাচলের পথ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার পরদিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্বোধনের দিনে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ জন পথচারী, দৌড়বিদ ও সাইকেল আরোহী ডেট্রয়েট ও উইন্ডসরের মধ্যে সেতুটি পার হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সেতুর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। এর আগে বুধবার সূর্যোদয়ের আগেই সেতু এলাকায় মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। সেতু পার হওয়ার ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার অংশ হতে অনেকেই ভোর থেকেই সেখানে জড়ো হন।
দিনভর সেতু এলাকায় বিরাজ করে উৎসবমুখর পরিবেশ। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার প্রতীকী পোশাক ও স্মারক পরিহিত মানুষজন হেঁটে, দৌড়ে এবং গল্প-আড্ডায় অংশ নেন। অনেকে ‘গোর্ডি হাউ’–সংক্রান্ত বিভিন্ন স্মারক পণ্য কেনেন। কেউ সাধারণ সাইকেল, কেউ এক-চাকার সাইকেল (ইউনিসাইকেল), আবার কেউ ট্যান্ডেম বাইক নিয়ে সেতু পার হন।
অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই জানান, উদ্বোধনী দিনে সেতু পার হওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁদের কাছে ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। ডেট্রয়েটের ৩১ বছর বয়সী বাসিন্দা মার্সেল মারে ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের দিকের প্রবেশপথে এসে লাইনের একেবারে সামনে দাঁড়ান। সেতু পার হওয়ার সময় তিনি তাঁর ছেলের ‘মাইলস মোরালেস স্পাইডার-ম্যান’ পুতুলটি পিঠে বেঁধে নিয়েছিলেন। তিনি জানান, পুতুলটি তাঁকে পুরো পথ অতিক্রম করতে বাড়তি অনুপ্রেরণা দিয়েছে।
অনেক অংশগ্রহণকারী আবার পারিবারিক ঐতিহ্য ও প্রিয়জনদের স্মৃতিকে সম্মান জানাতেও এই ঐতিহাসিক সেতু পার হওয়ার সুযোগকে বিশেষভাবে নিয়েছেন।
৭০ বছর বয়সী ক্লিফটন শার্প বলেন, তিনি তাঁর প্রপিতামহের রেখে যাওয়া একটি ঐতিহ্য ধরে রাখতে চেয়েছেন। তাঁর প্রপিতামহ ছিলেন প্রথম দিকের সেই আফ্রিকান-আমেরিকানদের একজন, যাঁরা পায়ে হেঁটে অ্যাম্বাসেডর ব্রিজ পার হয়েছিলেন।
অন্যদিকে, ওয়ান্ডটের বাসিন্দা কেলি কুক সাইকেল চালিয়ে সেতু পার হন তাঁর প্রয়াত বাবার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। তাঁর বাবা পেশায় একজন আয়রন-ওয়ার্কার (লোহার কাঠামোর কারিগর) ছিলেন এবং একসময় অ্যাম্বাসেডর ব্রিজের মেরামত কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
প্রায় ৪.৫৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত সেতুটিতে যানবাহন চলাচল শুরুর এক সপ্তাহের কিছু বেশি সময় পর পথচারী ও সাইকেল আরোহীদের জন্য একটি বিশেষ টোলমুক্ত পথ চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে পায়ে হেঁটে ও সাইকেলে যাতায়াতের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে এই পথ ব্যবহারকারীদের অবশ্যই কাস্টমস বা শুল্ক বিভাগের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে। ভ্রমণের সময় পাসপোর্ট, নেক্সাস (NEXUS) কার্ড অথবা মিশিগান এনহ্যান্সড ড্রাইভার্স লাইসেন্স বা আইডি-এর মতো অনুমোদিত ভ্রমণ নথিপত্র সঙ্গে রাখতে হবে।
কর্মকর্তাদের ধারণা অনুযায়ী, কাস্টমস প্রক্রিয়ার সময় বাদ দিলে সাইকেলে সেতুটি অতিক্রম করতে প্রায় ২০ মিনিট এবং পায়ে হেঁটে পার হতে প্রায় ৪৫ মিনিট সময় লাগবে।
Source & Photo: http://detroitnews.com