গত ২৯ জুলাই, মিশিগানের অ্যান আরবারে অনুষ্ঠিত অ্যান আরবার পাবলিক স্কুলস বোর্ড অফ এডুকেশনের এক নিয়মিত সভায় বোর্ডের ট্রাস্টি লেসলি উইলকিন্স, রিমা মোহাম্মদ, স্টিভেন নর্টন ও সুসান বাস্কেট (বাম থেকে যথাক্রমে) পাইওনিয়ার হাই স্কুলের ইংরেজি শিক্ষক অ্যামি ভেইলের (মাঝখানে) বক্তব্য শুনছেন। অ্যামি ভেইল স্কুলগুলোতে সেল ফোন ব্যবহারের প্রস্তাবিত নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করার এবং দুপুরের খাবারের বিরতি ও ক্লাসের মধ্যবর্তী সময়ে ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য রাখছিলেন/Katy Kildee, The Detroit News
ডেট্রয়েট, ২০ আগস্ট : অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় অ্যাড্রিয়েল মোরাভেক এমন একটি স্কুলে পড়াশোনা করতেন, যেখানে দিনের শুরুতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে তাদের মোবাইল ফোন নির্দিষ্ট একটি পাত্রে জমা রাখতে হতো এবং স্কুল ছুটির পর তা ফেরত দেওয়া হতো।
মোরাভেক জানান, শুরুতে বিষয়টি তাকে কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলেছিল। তবে দ্রুতই তিনি বুঝতে পারেন, স্কুলের অধিকাংশ সময়ে ফোন ব্যবহারের তেমন কোনো প্রয়োজন বা ইচ্ছা তার নেই। বর্তমানে ১৮ বছর বয়সী মোরাভেক বলেন, “সেখানে করার মতো অনেক কিছুই ছিল, যেমন বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলা।”
তিনি জানান, পরে ডেট্রয়েটের হেনরি ফোর্ড হাই স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর ফোন ব্যবহারের নিয়মে কিছুটা অসঙ্গতি দেখতে পান। কোনো কোনো শিক্ষক সব শিক্ষার্থীর ফোন একটি পাত্রে জমা রাখতে বলতেন, আবার কেউ কেউ এ বিষয়ে ততটা কঠোর ছিলেন না। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্কুলের করিডোরে কিংবা দুপুরের খাবারের বিরতিতে ফোন ব্যবহারের অনুমতিও দেওয়া হতো।
তবে চলতি শরৎকাল থেকেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে যাচ্ছে। ‘ডেট্রয়েট পাবলিক স্কুলস কমিউনিটি ডিস্ট্রিক্ট’ (DPSCD) সারাদিন—এমনকি দুপুরের খাবারের বিরতিতেও—শিক্ষার্থীদের হাতে মোবাইল ফোন রাখা বা ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ চাইলে দিনের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের ফোন জমা নিয়ে রাখতে পারবে। বিকল্প হিসেবে শিক্ষার্থীদের ফোন ব্যাগে রাখা কিংবা নির্দিষ্ট কোনো স্থানে সরিয়ে রাখার নির্দেশও দেওয়া যেতে পারে।
সম্প্রতি পাস হওয়া একটি অঙ্গরাজ্য আইনের প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ওই আইনে বলা হয়েছে, পাঠদান বা ক্লাস চলাকালে কোনো শিক্ষার্থী মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবে না।
ফলে নতুন শিক্ষাবর্ষে অনেক এলাকার শিক্ষার্থীরা স্কুলে ফিরে আরও কঠোর ফোন-ব্যবহারের নিয়মের মুখোমুখি হতে পারে। আবার কিছু স্কুলে আগে থেকেই চালু থাকা নিয়মগুলো আরও কঠোরভাবে কার্যকর হতে পারে, যেগুলো এতদিন যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছিল না।
ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের ‘ইউথ পলিসি ল্যাব’-এ মিশিগানের স্কুলগুলোতে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর চলমান গবেষণার প্রধান গবেষক ব্রায়ান জ্যাকব বলেন, অধিকাংশ স্কুল জেলার ক্ষেত্রে নতুন এই আইনের কারণে নীতিমালায় বড় কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না। তবে আইনটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তন আনতে হতে পারে।
তিনি বলেন, শিক্ষকরা আর স্কুলের ‘মোবাইল ফোন-নিষিদ্ধ’ নীতিমালা প্রয়োগে শিথিলতা দেখাতে পারবেন না। কোনো শিক্ষার্থী নির্ধারিত কাজ দ্রুত শেষ করলেও তাকে ফোন ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া যাবে না।
ডেট্রয়েট কর্তৃপক্ষ অবশ্য আইনের নির্দেশনার চেয়েও এক ধাপ এগিয়ে ‘বেল-টু-বেল’ (bell-to-bell) নীতি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। এই নীতির আওতায় শিক্ষার্থীদের শুধু ক্লাস চলাকালে নয়, পুরো স্কুল সময়জুড়েই মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।
অনেক স্কুল জেলা এমন সময়ে মোবাইল ফোন ব্যবহারের নতুন নীতিমালা অনুমোদন করেছে, যখন নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ বাকি।
Source & Photo: http://detroitnews.com
ডেট্রয়েট, ২০ আগস্ট : অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় অ্যাড্রিয়েল মোরাভেক এমন একটি স্কুলে পড়াশোনা করতেন, যেখানে দিনের শুরুতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে তাদের মোবাইল ফোন নির্দিষ্ট একটি পাত্রে জমা রাখতে হতো এবং স্কুল ছুটির পর তা ফেরত দেওয়া হতো।
মোরাভেক জানান, শুরুতে বিষয়টি তাকে কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলেছিল। তবে দ্রুতই তিনি বুঝতে পারেন, স্কুলের অধিকাংশ সময়ে ফোন ব্যবহারের তেমন কোনো প্রয়োজন বা ইচ্ছা তার নেই। বর্তমানে ১৮ বছর বয়সী মোরাভেক বলেন, “সেখানে করার মতো অনেক কিছুই ছিল, যেমন বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলা।”
তিনি জানান, পরে ডেট্রয়েটের হেনরি ফোর্ড হাই স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর ফোন ব্যবহারের নিয়মে কিছুটা অসঙ্গতি দেখতে পান। কোনো কোনো শিক্ষক সব শিক্ষার্থীর ফোন একটি পাত্রে জমা রাখতে বলতেন, আবার কেউ কেউ এ বিষয়ে ততটা কঠোর ছিলেন না। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্কুলের করিডোরে কিংবা দুপুরের খাবারের বিরতিতে ফোন ব্যবহারের অনুমতিও দেওয়া হতো।
তবে চলতি শরৎকাল থেকেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে যাচ্ছে। ‘ডেট্রয়েট পাবলিক স্কুলস কমিউনিটি ডিস্ট্রিক্ট’ (DPSCD) সারাদিন—এমনকি দুপুরের খাবারের বিরতিতেও—শিক্ষার্থীদের হাতে মোবাইল ফোন রাখা বা ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ চাইলে দিনের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের ফোন জমা নিয়ে রাখতে পারবে। বিকল্প হিসেবে শিক্ষার্থীদের ফোন ব্যাগে রাখা কিংবা নির্দিষ্ট কোনো স্থানে সরিয়ে রাখার নির্দেশও দেওয়া যেতে পারে।
সম্প্রতি পাস হওয়া একটি অঙ্গরাজ্য আইনের প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ওই আইনে বলা হয়েছে, পাঠদান বা ক্লাস চলাকালে কোনো শিক্ষার্থী মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবে না।
ফলে নতুন শিক্ষাবর্ষে অনেক এলাকার শিক্ষার্থীরা স্কুলে ফিরে আরও কঠোর ফোন-ব্যবহারের নিয়মের মুখোমুখি হতে পারে। আবার কিছু স্কুলে আগে থেকেই চালু থাকা নিয়মগুলো আরও কঠোরভাবে কার্যকর হতে পারে, যেগুলো এতদিন যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছিল না।
ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের ‘ইউথ পলিসি ল্যাব’-এ মিশিগানের স্কুলগুলোতে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর চলমান গবেষণার প্রধান গবেষক ব্রায়ান জ্যাকব বলেন, অধিকাংশ স্কুল জেলার ক্ষেত্রে নতুন এই আইনের কারণে নীতিমালায় বড় কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না। তবে আইনটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তন আনতে হতে পারে।
তিনি বলেন, শিক্ষকরা আর স্কুলের ‘মোবাইল ফোন-নিষিদ্ধ’ নীতিমালা প্রয়োগে শিথিলতা দেখাতে পারবেন না। কোনো শিক্ষার্থী নির্ধারিত কাজ দ্রুত শেষ করলেও তাকে ফোন ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া যাবে না।
ডেট্রয়েট কর্তৃপক্ষ অবশ্য আইনের নির্দেশনার চেয়েও এক ধাপ এগিয়ে ‘বেল-টু-বেল’ (bell-to-bell) নীতি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। এই নীতির আওতায় শিক্ষার্থীদের শুধু ক্লাস চলাকালে নয়, পুরো স্কুল সময়জুড়েই মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।
অনেক স্কুল জেলা এমন সময়ে মোবাইল ফোন ব্যবহারের নতুন নীতিমালা অনুমোদন করেছে, যখন নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ বাকি।
Source & Photo: http://detroitnews.com