বরখাস্তের জেরে হ্যামট্রাম্যাক কাউন্সিলের বিরুদ্ধে সাবেক সিটি ম্যানেজারের মামলা

আপলোড সময় : ২০-০৮-২০২৬ ১০:২৪:৫২ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২০-০৮-২০২৬ ১০:২৪:৫২ পূর্বাহ্ন
হ্যামট্রাম্যাক, ২০ আগস্ট : হ্যামট্রাম্যাকের সাবেক সিটি ম্যানেজার আদেল আল-আদলানি তাঁকে অন্যায়ভাবে বরখাস্ত করার অভিযোগে সিটি কর্তৃপক্ষ ও কয়েকজন সিটি কাউন্সিল সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। সাবেক কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে শহরের বিরুদ্ধে দায়ের করা দুটি মামলার মধ্যে এটি অন্যতম।
আদেল আল-আদলানি চার মাসেরও কম সময় হ্যামট্রাম্যাকের সিটি ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে হ্যামট্রাম্যাক সিটি কাউন্সিল তাঁকে বরখাস্ত করে। তবে আল-আদলানির দাবি, তাঁকে কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই অন্যায়ভাবে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত ১০ আগস্ট ওয়েইন কাউন্টি সার্কিট কোর্টে দায়ের করা মামলায় আল-আদলানি অভিযোগ করেন, আইন ও শহরের সনদের (সিটি চার্টার) সম্ভাব্য লঙ্ঘনের বিষয়ে রিপোর্ট করার কারণেই তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে তিনি বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন।
হ্যামট্রাম্যাকে এক বছরের মধ্যে চতুর্থ সিটি ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন আল-আদলানি। মামলায় তিনি সিটি কাউন্সিলের সদস্য মোহাম্মদ হাসান, ইউসুফ সাঈদ, মোহাম্মদ আলসোমিরি, মুহতাসিন সাদমান এবং আবু মুসাকে আসামি করেছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত কাউন্সিল সদস্যদের কারও কাছ থেকেই তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত ৯ জুন অনুষ্ঠিত সিটি কাউন্সিলের সভার আলোচ্যসূচিতে শেষ মুহূর্তে একটি বিষয় যুক্ত করে আল-আদলানিকে বরখাস্ত করা হয়। এর আগে মেয়র অ্যাডাম আলহারবি ও কাউন্সিল সদস্য মোহাম্মদ হাসানের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। আল-আদলানিকে বরখাস্ত করার পক্ষে হাসানই ছিলেন সবচেয়ে সোচ্চার কাউন্সিল সদস্য।
উল্লেখ্য, নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন এবং অনুপস্থিত ভোটদাতার ব্যালট (অ্যাবসেন্টি ব্যালট) আবেদনের সময় মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে চলতি মাসের শুরুতে হাসানকে এক বছরের প্রবেশন (পর্যবেক্ষণমূলক) সাজা দেওয়া হয়েছে।
আলহারবি আল-আদলানিকে বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে “অবিবেচনাপ্রসূত” বলে অভিহিত করেছিলেন। একই সময় তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিলেন, এই সিদ্ধান্তের জেরে মামলা হতে পারে।
তবে কাউন্সিল সদস্যরা আল-আদলানিকে বরখাস্ত করার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেননি। যদিও ভোটের আগে তাঁর কাজের ধরন ও দায়িত্ব পালনের বিষয়ে কাউন্সিল সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধ ও তর্ক-বিতর্ক হয়েছিল।
জুন মাসে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মেয়র অ্যাডাম আলহারবি অভিযোগ করেন, সিটি কাউন্সিলের কয়েকজন সদস্য এমন একটি “অবিবেচনাপ্রসূত” সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা পুরো শহরের জন্য উদ্বেগের কারণ হওয়া উচিত। তাঁর অভিযোগ, কাউন্সিল সদস্যরা সভার সভাপতির (চেয়ার) কর্তৃত্ব উপেক্ষা করে শহরের সনদ বা চার্টারের বিধান পাশ কাটিয়েছেন এবং সিটি ম্যানেজারকে বরখাস্ত করতে শেষ মুহূর্তে জোরপূর্বক ভোটের আয়োজন করেছেন।
আলহারবি আরও অভিযোগ করেন, বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক প্রমাণ করতে কাউন্সিলের কিছু সদস্য পর্দার আড়ালে বিভিন্ন অভিযোগ দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন এবং নিজেদের সিদ্ধান্তের পক্ষে অজুহাত তৈরি করছেন। আল-আদলানিকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে জুন মাসেই ওয়েইন কাউন্টির এক বিচারকের কাছে মামলা দায়ের করেন আলহারবি। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
যেসব সিটি কাউন্সিল সদস্য আল-আদলানিকে বরখাস্ত করার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন, তাঁরা তাঁর অপসারণের সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
কাউন্সিল সভার সময় সদস্য ইউসুফ সাঈদ দাবি করেন, সিটি হলে স্বল্পকালীন দায়িত্ব পালনের সময় সিটি ম্যানেজার আল-আদলানি বেশ কিছু নিয়ম লঙ্ঘন করেছিলেন। তবে তিনি কী ধরনের নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেননি।
অন্যদিকে ইউসেফ বলেন, কাউন্সিল বেআইনিভাবে শহরের সনদের (চার্টার) নিয়ম এড়িয়ে যায়নি; বরং নিয়মগুলো সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো বিষয় নিয়ে সাধারণ আলোচ্যসূচি বা পরবর্তী সভার জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত আলোচনা করতে চাইলে এ ধরনের পদ্ধতিগত পদক্ষেপ নেওয়া মোটামুটি প্রচলিত।
Source & Photo: http://detroitnews.com
 

সম্পাদকীয় :

চিনু মৃধা : সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

সম্পাদক ও প্রকাশক : চিন্ময় আচার্য্য, নির্বাহী সম্পাদক : কামাল মোস্তফা, সহযোগী সম্পাদক : আশিক রহমান,

বার্তা সম্পাদক : তোফায়েল রেজা সোহেল, ফিচার এডিটর : সৈয়দ আসাদুজ্জামান সোহান, স্টাফ রিপোর্টার : মৃদুল কান্তি সরকার।

অফিস :

22021 Memphis Ave Warren, MI 48091

Phone : +1 (313) 312-7006

Email : [email protected]

Website : www.suprobhatmichigan.com