৯ আগস্ট বার্মিংহামে মারামারির ঘটনায় ধারণ করা ভিডিওর একটি দৃশ্যের স্ক্রিনশট/Video Courtesy Of Garcia Bragg
বার্মিংহাম, ২৬ আগস্ট: শহরের কেন্দ্রস্থলে (ডাউনটাউন) তরুণদের মধ্যে সংঘর্ষসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার পর জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। একই সঙ্গে এসব উদ্বেগ মোকাবিলায় স্থানীয় সরকারের সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি করণীয় নিয়েও আলোচনা চলছে।
ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ওকল্যান্ড কাউন্টির অন্যতম বিত্তশালী শহর বার্মিংহামের উইলিটস ও বেটস রাস্তার সংযোগস্থলে ৯ আগস্ট ভোরে আনুমানিক ২০ থেকে ৪০ জন একে অপরকে লাথি, ঘুষি ও ধাক্কাধাক্কি করছেন। ভিডিওর এক পর্যায়ে মাটিতে পড়ে থাকা এক ব্যক্তিকে কয়েকজন তরুণ মিলে মারধর করতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন এ দৃশ্যকে ‘জন উইক’ (John Wick) সিনেমার দৃশ্যের সঙ্গে তুলনা করেন।
ঘটনাটি পুরো বার্মিংহাম শহরে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সিটি কমিশনার ব্র্যাড হোস্ট জানান, ভিডিওটি দেখার পর বেশ কয়েকজন বাড়ির মালিক তাকে বলেছেন, তারা এখন শহরের কেন্দ্রস্থলে যেতে ভয় পাচ্ছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ বিভাগ ইতিমধ্যে ডাউনটাউনে অতিরিক্ত টহলের ব্যবস্থা করেছে।
তবে দীর্ঘমেয়াদে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, এর জন্য কত খরচ হবে এবং কিশোর-তরুণদের অপ্রয়োজনে ওই এলাকায় ঘোরাঘুরি বা আড্ডা দেওয়া থেকে কীভাবে বিরত রাখা যাবে—এসব প্রশ্নের এখনো সুনির্দিষ্ট সমাধান হয়নি।
২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত সিটি কমিশনের বৈঠকে একজন কমিশনার এমন একটি প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তাব দেন, যেখান থেকে উচ্চ-কম্পাঙ্কের (high-pitched) শব্দ নির্গত হবে। এর মাধ্যমে কিশোর ও তরুণদের ওই এলাকায় আড্ডা দেওয়া থেকে নিরুৎসাহিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
‘সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে আমাদের অবশ্যই আরও জোরালো পুলিশি উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। দ্রুত চলাচলের জন্য বাইক বা স্কুটার হয়তো সবচেয়ে কার্যকর উপায় হতে পারে,’—১৩ আগস্ট সিটি ম্যানেজার জানা একারকে পাঠানো এক ইমেইলে এ কথা বলেন বার্মিংহামের মেয়র ক্লিনটন ব্যালার। ইমেইলটি ‘দ্য ডেট্রয়েট নিউজ’-এর হাতে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু পায়ে হেঁটে টহল দেওয়া যথেষ্ট নয়। আমি জানি, এতে পুলিশ বাহিনীর ওপর এবং সম্ভবত বাজেটের ওপরও চাপ পড়বে। কিন্তু আমি এর কোনো বিকল্প দেখছি না।’
বার্মিংহামের পুলিশ প্রধান রায়ান কার্নি জানান, সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে শহরের কেন্দ্রস্থলে ইতিমধ্যে বাইক ও পায়ে হেঁটে টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার রাতে—যখন ডাউনটাউনে ভিড় সবচেয়ে বেশি থাকে—ঠিক কতজন অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট তথ্য দেননি।
বর্তমানে বার্মিংহাম পুলিশ বিভাগে ৩৬ জন নিয়মিত পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। ২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত সিটি কমিশনের বৈঠকে পুলিশ প্রধান জোর দিয়ে বলেন, কিছু বাসিন্দার উদ্বেগ থাকলেও বার্মিংহাম এখনো একটি নিরাপদ শহর।
বৈঠকে কার্নি বলেন, ‘আমি কমিশন, বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের জানাতে চাই—আমরা আপনাদের কথা শুনছি, নিঃসন্দেহে শুনছি। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই যে বার্মিংহাম এখনো একটি নিরাপদ শহর।’
বৈঠকে মেয়র ক্লিনটন ব্যালার বলেন, ‘আমরা জনসমাগম দেখি এবং তার অংশ হয়ে উঠি। তরুণ-বৃদ্ধ, কৃষ্ণাঙ্গ-শ্বেতাঙ্গ, ক্যালডিয়ান-আলবেনিয়ান কিংবা খ্রিস্টান-মুসলিম—সব ধরনের মানুষের ভিড়ের মধ্য দিয়ে আমরা এগিয়ে যাই। এই জনসমাগম বা বৈচিত্র্যকে আমরা ভয় পাই না, বরং স্বাগত জানাই। তবে কখনো কি পরিস্থিতি সামলানো কঠিন বা অত্যধিক মনে হতে পারে? অবশ্যই। টহলের জন্য আরও পুলিশ প্রয়োজন—এ বিষয়ে কি আমরা একমত? অবশ্যই।’
কার্নি জানান, বার্মিংহাম ফায়ার ডিপার্টমেন্ট শহরের কেন্দ্রস্থলের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই ভবনের ধারণক্ষমতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সংক্রান্ত পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
তবে শহরের কেন্দ্রস্থলে বাড়তি পুলিশি টহলের এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে কতটা ধরে রাখা সম্ভব এবং এর সম্ভাব্য ব্যয় কত হবে—তা নিয়ে নগর কর্মকর্তাদের উদ্বেগ রয়েছে।
২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত সিটি কমিশনের সভায় হোস্ট বলেন, আরও পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উপায় নিয়ে তাকে ও অন্যান্য কর্মকর্তাকে আলোচনা করতে হতে পারে। এর মাধ্যমে পুলিশ বিভাগ যাতে নিয়মিতভাবে শহরের কেন্দ্রস্থলে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন রাখতে পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
আলোচনা চললেও পুলিশ প্রধান কার্নি বলেন, এসব কারণে দর্শনার্থীদের শহরের কেন্দ্রস্থলে আসা থেকে বিরত থাকার প্রয়োজন নেই।
‘এটি একটি ব্যস্ত এলাকা। এখানে মাঝেমধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এ ধরনের আচরণ প্রতিরোধে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করি,’ বলেন কার্নি। ‘আমাদের জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা অত্যন্ত দ্রুত। প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো মুহূর্তে আমরা প্রয়োজনীয় সম্পদ ও জনবল মোতায়েন করি।’
Source & Photo: http://detroitnews.com
বার্মিংহাম, ২৬ আগস্ট: শহরের কেন্দ্রস্থলে (ডাউনটাউন) তরুণদের মধ্যে সংঘর্ষসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার পর জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। একই সঙ্গে এসব উদ্বেগ মোকাবিলায় স্থানীয় সরকারের সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি করণীয় নিয়েও আলোচনা চলছে।
ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ওকল্যান্ড কাউন্টির অন্যতম বিত্তশালী শহর বার্মিংহামের উইলিটস ও বেটস রাস্তার সংযোগস্থলে ৯ আগস্ট ভোরে আনুমানিক ২০ থেকে ৪০ জন একে অপরকে লাথি, ঘুষি ও ধাক্কাধাক্কি করছেন। ভিডিওর এক পর্যায়ে মাটিতে পড়ে থাকা এক ব্যক্তিকে কয়েকজন তরুণ মিলে মারধর করতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন এ দৃশ্যকে ‘জন উইক’ (John Wick) সিনেমার দৃশ্যের সঙ্গে তুলনা করেন।
ঘটনাটি পুরো বার্মিংহাম শহরে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সিটি কমিশনার ব্র্যাড হোস্ট জানান, ভিডিওটি দেখার পর বেশ কয়েকজন বাড়ির মালিক তাকে বলেছেন, তারা এখন শহরের কেন্দ্রস্থলে যেতে ভয় পাচ্ছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ বিভাগ ইতিমধ্যে ডাউনটাউনে অতিরিক্ত টহলের ব্যবস্থা করেছে।
তবে দীর্ঘমেয়াদে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, এর জন্য কত খরচ হবে এবং কিশোর-তরুণদের অপ্রয়োজনে ওই এলাকায় ঘোরাঘুরি বা আড্ডা দেওয়া থেকে কীভাবে বিরত রাখা যাবে—এসব প্রশ্নের এখনো সুনির্দিষ্ট সমাধান হয়নি।
২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত সিটি কমিশনের বৈঠকে একজন কমিশনার এমন একটি প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তাব দেন, যেখান থেকে উচ্চ-কম্পাঙ্কের (high-pitched) শব্দ নির্গত হবে। এর মাধ্যমে কিশোর ও তরুণদের ওই এলাকায় আড্ডা দেওয়া থেকে নিরুৎসাহিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
‘সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে আমাদের অবশ্যই আরও জোরালো পুলিশি উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। দ্রুত চলাচলের জন্য বাইক বা স্কুটার হয়তো সবচেয়ে কার্যকর উপায় হতে পারে,’—১৩ আগস্ট সিটি ম্যানেজার জানা একারকে পাঠানো এক ইমেইলে এ কথা বলেন বার্মিংহামের মেয়র ক্লিনটন ব্যালার। ইমেইলটি ‘দ্য ডেট্রয়েট নিউজ’-এর হাতে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু পায়ে হেঁটে টহল দেওয়া যথেষ্ট নয়। আমি জানি, এতে পুলিশ বাহিনীর ওপর এবং সম্ভবত বাজেটের ওপরও চাপ পড়বে। কিন্তু আমি এর কোনো বিকল্প দেখছি না।’
বার্মিংহামের পুলিশ প্রধান রায়ান কার্নি জানান, সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে শহরের কেন্দ্রস্থলে ইতিমধ্যে বাইক ও পায়ে হেঁটে টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার রাতে—যখন ডাউনটাউনে ভিড় সবচেয়ে বেশি থাকে—ঠিক কতজন অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট তথ্য দেননি।
বর্তমানে বার্মিংহাম পুলিশ বিভাগে ৩৬ জন নিয়মিত পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। ২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত সিটি কমিশনের বৈঠকে পুলিশ প্রধান জোর দিয়ে বলেন, কিছু বাসিন্দার উদ্বেগ থাকলেও বার্মিংহাম এখনো একটি নিরাপদ শহর।
বৈঠকে কার্নি বলেন, ‘আমি কমিশন, বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের জানাতে চাই—আমরা আপনাদের কথা শুনছি, নিঃসন্দেহে শুনছি। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই যে বার্মিংহাম এখনো একটি নিরাপদ শহর।’
বৈঠকে মেয়র ক্লিনটন ব্যালার বলেন, ‘আমরা জনসমাগম দেখি এবং তার অংশ হয়ে উঠি। তরুণ-বৃদ্ধ, কৃষ্ণাঙ্গ-শ্বেতাঙ্গ, ক্যালডিয়ান-আলবেনিয়ান কিংবা খ্রিস্টান-মুসলিম—সব ধরনের মানুষের ভিড়ের মধ্য দিয়ে আমরা এগিয়ে যাই। এই জনসমাগম বা বৈচিত্র্যকে আমরা ভয় পাই না, বরং স্বাগত জানাই। তবে কখনো কি পরিস্থিতি সামলানো কঠিন বা অত্যধিক মনে হতে পারে? অবশ্যই। টহলের জন্য আরও পুলিশ প্রয়োজন—এ বিষয়ে কি আমরা একমত? অবশ্যই।’
কার্নি জানান, বার্মিংহাম ফায়ার ডিপার্টমেন্ট শহরের কেন্দ্রস্থলের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই ভবনের ধারণক্ষমতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সংক্রান্ত পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
তবে শহরের কেন্দ্রস্থলে বাড়তি পুলিশি টহলের এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে কতটা ধরে রাখা সম্ভব এবং এর সম্ভাব্য ব্যয় কত হবে—তা নিয়ে নগর কর্মকর্তাদের উদ্বেগ রয়েছে।
২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত সিটি কমিশনের সভায় হোস্ট বলেন, আরও পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উপায় নিয়ে তাকে ও অন্যান্য কর্মকর্তাকে আলোচনা করতে হতে পারে। এর মাধ্যমে পুলিশ বিভাগ যাতে নিয়মিতভাবে শহরের কেন্দ্রস্থলে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন রাখতে পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
আলোচনা চললেও পুলিশ প্রধান কার্নি বলেন, এসব কারণে দর্শনার্থীদের শহরের কেন্দ্রস্থলে আসা থেকে বিরত থাকার প্রয়োজন নেই।
‘এটি একটি ব্যস্ত এলাকা। এখানে মাঝেমধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এ ধরনের আচরণ প্রতিরোধে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করি,’ বলেন কার্নি। ‘আমাদের জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা অত্যন্ত দ্রুত। প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো মুহূর্তে আমরা প্রয়োজনীয় সম্পদ ও জনবল মোতায়েন করি।’
Source & Photo: http://detroitnews.com